ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষার জন্য সুপ্রিম কোর্টের রায় খুব একটা ইতিবাচক নয় বলে মন্তব্য করলেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন -এর প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন যে শীর্ষ আদালত বড় সংশোধনীগুলো স্থগিত না করার ফলে ওয়াকফ সম্পত্তির দখলদাররা সুবিধা পাবে। সংসদের উভয় কক্ষে বিল এনে তা পাশ করিয়ে কেন্দ্র তৈরি করে সংশোধিত ওয়াকফ আইন, ২০২৫। ওয়াকফ আইনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মামলা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। সোমবার সেই নিয়ে রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
যদিও এই রায়ে সংশোধিত ওয়াকফ আইনের উপর সম্পূর্ণ স্থগিতাদেশ জারি করেনি সুপ্রিম কোর্ট। অন্তর্বর্তী রায়ে আদালত জানিয়েছে, ওই আইনের সব ধারা সম্পূর্ণ স্থগিত করার কোনও যুক্তি নেই। সুপ্রিম কোর্ট রায়ে জানিয়েছে, ওয়াকফ সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির একমাত্র ক্ষমতা কালেক্টরের থাকবে না। সংশোধিত আইনে কোনও সম্পত্তি ওয়াকফ কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা জেলাশাসক বা সম পদমর্যাদার আধিকারিকদের হাতে দেওয়া হয়। পাশাপাশি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিম সদস্য নিষিদ্ধ না করা হলেও সেই সংখ্যা সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে এআইএমআইএম প্রধান বলেন, ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিমদের সংখ্যা কমানো হলেও বিষয়টাই সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন, যা ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলিকে তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তি পরিচালনার স্বাধীনতা দেয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “হিন্দু এন্ডাউমেন্ট বোর্ড, শিখ গুরদোয়ারা প্রবন্ধক কমিটি বা বোধগয়া ট্রাস্টে যখন কোনও অমুসলিম নেই, তখন ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিমদের রাখা হচ্ছে কেন?”
ওয়েইসির অভিযোগ, আসলে কেন্দ্র একেবারেই এই সম্পত্তি রক্ষা করতে চায় না। তাঁর মতে, সুপ্রিম কোর্টে বড় সংশোধনীগুলি স্থগিত না হওয়ায় এবার যারা ওয়াকফ সম্পত্তি দখল করেছে, তারা পুরস্কৃত হবে। ওয়াকফ সম্পত্তির দখলদাররা সুবিধা পাবে। শীর্ষ আদালতের সোমাবারের রায় ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষার জন্য মোটেই শুভ নয়, এমনটা জানিয়ে আসাদউদ্দিন জানান, মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের উচিত এই আইনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শুনানি শুরু করা। মুসলিম সমাজ সমস্ত যুক্তি সেখানে উপস্থাপন করবে।
