সুস্মেলী দত্ত
লাহা পরিবারের দুর্গাপূজা ঠিক কবে থেকে কোথায় শুরু হয়েছে, এ সম্পর্কে বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন মতভেদ আছে|কেউ বলেন,এই পূজা মহানন্দ লাহা প্রথম শুরু করেন কর্জনা নগরীতে|সেই হিসেবে দেখতে গেলে পুজো প্রায় আটশো বছরের পুরনো| তবে লিখিত তথ্য অনুযায়ী, ১৮৫৭সালে মহারাজা দূর্গাচরণ লাহা, শ্রীকৃষ্ণ লাহা, শ্যামচরণ লাহা, ভগবতী চরণ লাহা ঠনঠনিয়া কালীবাড়ির উল্টোদিকে ১, বেচু চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িটি কিনে এই পুজোর প্রচলন করেন|ইতিমধ্যে ১৮৩০ সাল নাগাদ লাহা পরিবারের এক গিন্নি অষ্টধাতুর এক সিংহবাহিনীর স্বপ্নাদেশ পান। পরবর্তীকালে এই বিগ্রহ শ্রী শ্রী জয় জয় মাতা রূপে লাহা পরিবারের কাছে আরাধ্য দেবী হয়ে ওঠেন| মূলত লাহা পরিবারের উন্নতির কারণ ইনিই, তাই আজও ওঁকে সামনে রেখে মৃন্ময়ী মা দুর্গার আরাধনা করা হয়|এবং সমগ্র পরিবার বিশ্বাস করে যে, শ্রী শ্রী জয় জয় মাতা সারা বছর লাহাদের বাড়িতেই বিরাজমান|
প্রাণকৃষ্ণ, নবকৃষ্ণ ও শ্রীকৃষ্ণ এই তিন পূর্বসুরির উত্তরপুরুষেরা পালানুসারে বড়, মেজ, ছোট- ঘর হিসেবে প্রতি বছর একচালা কাঠামোয় এই দুর্গাপূজা খুব ধুমধামের সঙ্গে পালন করেন|বৈষ্ণব নিয়ম মেনে এই পূজা হয় বলে এখানে শসা ও ছাঁচি কুমড়ো বলি দেওয়া হয়|ভোগের রান্না নির্দিষ্ট, এবং চিরাচরিত রীতি মেনে শুকনো মিষ্টি, লুচি আলুনি তরকারি প্রভৃতি ভোগের উপকরণ হিসেবে দেবীকে দেওয়া হয়|
দেবী দুর্গা এখানে শিবের কোলে উপবিষ্টা, শিব বৃষের উপরে| এছাড়া ডান ও বাম দিকে লক্ষ্মী সরস্বতী কার্তিক ও গণেশ| ডাকের সাজ পরিহিতা মৃন্ময়ী মা ও শ্রী শ্রী জয় জয় মাতার এই পুজো খুব নিষ্ঠার সঙ্গে প্রতিবছর পালিত হয়|নিয়মমাফিক লাহা বাড়িতে অন্য কোনো মূর্তিপূজা প্রায় নিষিদ্ধ বলা যেতে পারে|
