স্নিগ্ধা চৌধুরী
নবরাত্রির দ্বিতীয় দিনে দেবী দুর্গা ব্রহ্মচারিণী রূপে পূজিতা হন। এই রূপে তিনি আধ্যাত্মিক সাধনা, ত্যাগ, ভক্তি ও ব্রহ্মচর্যের প্রতীক। পুরাণে বর্ণিত আছে, মহাদেবকে স্বামী রূপে লাভ করার জন্য পার্বতী রূপিণী দুর্গা অনন্তকাল ধরে কঠোর তপস্যা করেছিলেন। হিমালয়ের নির্জন গুহায় তিনি অনাহার, অন্ন-জল বর্জন করে কেবল ধ্যানমগ্ন অবস্থায় ব্রহ্মতত্ত্বের সাধনা চালিয়ে গিয়েছিলেন। সেই তপস্যার ফলেই তিনি দেবাদিদেব শিবের প্রিয়ভাগিনী হয়ে উঠেছিলেন এবং তাঁর ব্রহ্মচারিণী রূপের মাহাত্ম্য প্রকাশ পেয়েছিল।
মা ব্রহ্মচারিণীর চিত্রে দেখা যায়, তাঁর ডান হাতে জপমালা, যা একাগ্র সাধনা ও ভক্তির প্রতীক। বাম হাতে থাকে কমণ্ডলু, যা সংযম, ত্যাগ ও ব্রহ্মচর্যের প্রতীক। এই রূপ ভক্তকে শেখায় আত্মসংযম, সততা, ভক্তি ও অধ্যবসায়কে জীবনের মূলমন্ত্র করে নিতে। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, ব্রহ্মচারিণীর পূজায় ধ্যান ও উপবাসে মগ্ন থাকলে জীবনে মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি পায় এবং সমস্ত বাধা-বিপত্তির মোকাবিলায় সাহস অর্জন করা যায়।
উত্তর ভারতের নানা প্রান্তে এই দেবীর আরাধনা বিশেষভাবে জনপ্রিয়। বারাণসীতে অবস্থিত তাঁর প্রধান মন্দিরে দ্বিতীয়ার দিনে হাজার হাজার ভক্ত সমবেত হন। মধ্যপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও উত্তরাখণ্ডেও এই রূপের পূজা উৎসাহের সঙ্গে পালিত হয়। বাংলাতেও দুর্গাপুজোর দ্বিতীয় দিনে ভক্তরা ব্রহ্মচারিণীর পূজায় মনোনিবেশ করেন, দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন শক্তি ও শান্তির জন্য।
হিন্দু শাস্ত্র মতে, মা ব্রহ্মচারিণী হলেন তপস্যা, ধ্যান ও আধ্যাত্মিক শক্তির মূর্তি। তিনি ভক্তকে স্মরণ করিয়ে দেন জীবনের প্রকৃত সাফল্য আসে আত্মসংযম, দৃঢ়তা এবং অক্লান্ত সাধনার মাধ্যমে। তাঁর আরাধনায় ভক্ত শুধু মানসিক শান্তিই লাভ করেন না, বরং জীবনের কঠিন সংগ্রামে জয়লাভ করার শক্তিও অর্জন করেন।
এই কারণে নবরাত্রির দ্বিতীয় দিনকে শুধুমাত্র একটি পূজার দিন হিসেবে নয়, আত্মসংযম ও সাধনার প্রতিজ্ঞা গ্রহণের দিন হিসেবে মানা হয়। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, মা ব্রহ্মচারিণীর করুণাদৃষ্টি লাভ করলে জীবনে সমস্ত অন্ধকার দূর হয়ে আলোর পথ প্রশস্ত হয়।
