ক্রমেই বিপদ বাড়ছে হিমাচলের। এ বছরের নজিরবিহীন বর্ষণে হিমাচলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানির পর প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঘটনায় বাস্তুতন্ত্র না মেনে উন্নয়নের নামে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়ায় অভিযুক্ত হিমাচল প্রদেশ সরকার। গত অগস্ট মাসে হিমাচলের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার ফের হিমাচল প্রদেশ-সহ হিমালয় পর্বতের এলাকাগুলির প্রাকৃতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের কাছে উপযুক্ত তথ্য ও উত্তর চাইল শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্ট হিমাচল প্রদেশ সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক রিপোর্ট জমা দিতে। এ বছরের নজিরবিহীন বর্ষণে হিমাচলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের পর শীর্ষ আদালত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এই মামলাটি গ্রহণ করে। সম্প্রতি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ হিমাচলের বন্যায় ভেসে যাওয়া কাঠের গুঁড়ির ভিডিয়ো দেখে অবৈধভাবে গাছ কাটা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।
বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার পর্যবেক্ষণ, হিমালয় অঞ্চল বর্তমানে ‘গুরুতর অস্তিত্বের সংকট’-এর মুখোমুখি। এই অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণহীন উন্নয়নমূলক কাজ প্রাকৃতিক বিপদকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। এজন্য হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্প, চার-লেন হাইওয়ে, বন ধ্বংস করে ও বহুতল নির্মাণের মতো উদ্যোগকে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আদালত আগেই মন্তব্য করেছিল যে, পাহাড়ে ধস, বাড়ি ভেঙে পড়া, রাস্তা বসে যাওয়ার জন্য ‘প্রকৃতি নয়, মানুষ’ই দায়ী।
গত অগস্ট মাসে হিমাচলের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মাধবনের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল, হিমাচল প্রদেশের পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ থেকে আরও খারাপ হচ্ছে। আগস্টের ২৫ তারিখে সুপ্রিম কোর্ট সিনিয়র অ্যাডভোকেট কে পরমেশ্বরকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ করে, যাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট আকাশি লোধা। রাজ্য সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট খতিয়ে দেখে অ্যামিকাস একটি বিশদ প্রশ্নপত্র তৈরি করেন, যেখানে পরিবেশ ও উন্নয়ন সংক্রান্ত নানা বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট তা সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করে হিমাচল সরকারকে এই সব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ জবাব, বন দফতরের প্রধান সচিবের হলফনামা সহ, আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
