স্বঘোষিত গুরু স্বামী চৈতন্যানন্দের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ, বিলাসবহুল গাড়ি ও অর্থ জালিয়াতির খোঁজে নড়েচড়ে বসেছে দিল্লি পুলিশ। দিল্লির বসন্তকুঞ্জে শ্রী শারদা ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ান ম্যানেজমেন্ট-এর অন্তত ১৭ জন ছাত্রীকে তিনি যৌন হেনস্থা করেছেন বলে অভিযোগ। আসুন এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক পুলিশি তদন্তে উঠে আসা তাঁর কীর্তিকলাপের নমুনাগুলি।
নজরদারি ও হেনস্থা:
•এফআইআরে বলা হয়েছে, হস্টেলের চারপাশে এমনকি বাথরুমের কাছেও তিনি সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছিলেন “নিরাপত্তার” অজুহাতে।
•মোবাইলে ফুটেজ দেখে ছাত্রীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন করতেন।
•এক ছাত্রী জানিয়েছেন, চৈতন্যানন্দ সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিলেন তিনি প্রেমিকের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করেন কিনা এবং কন্ডোম ব্যবহার করেন কিনা।
•বহু ছাত্রীকে “চরিত্রহীন” বলে অপমান করা হয়েছে, কাগজপত্র আটকে রাখা হয়েছে, এমনকি টাকা না দিলে ডকুমেন্টস দেওয়া হয়নি।
যৌন হেনস্থা ও বিদেশ ভ্রমণের প্রলোভন:
•এক প্রাক্তন ছাত্রী জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে ভর্তি হওয়ার আট মাসের মধ্যেই তিনি কলেজ ছাড়েন অশ্লীল বার্তার কারণে।
•তাঁকে “বেবি” ও “সুইট গার্ল” বলে ডাকতেন চৈতন্যানন্দ।
•দুবাই নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন, খরচ বহন করবেন বলেও জানান।
•ছাত্রীটির ফোন বাজেয়াপ্ত করে তাঁকে হস্টেলে একঘরে করে রাখা হয়, ভ্রমণে যেতে চাপ দেওয়া হয়।
হস্টেলকে ‘ভয়ের ঘর’ বানানো :
•ছাত্রী-হস্টেলে তাঁর ব্যক্তিগত কক্ষ ছিল, সবসময় সিসিটিভি ফুটেজে নজর রাখতেন।
•ডিভিআর প্রমাণ নষ্ট করতেন, সাসপেনশনের ভয় দেখাতেন, এমনকি এক ছাত্রীকে নিজের নাম পাল্টাতে বাধ্য করেন।
•শিক্ষা দফতরে অভিযোগ জানানো হলেও তা ফের কলেজ ব্যবস্থাপনার কাছেই ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।
আর্থিক জালিয়াতি ও বিলাসবহুল গাড়ি :
•তদন্তে জানা গেছে, ইনস্টিটিউটের সম্পত্তি ব্যবহার করে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ করতেন।
•ক্যাম্পাসে ছাপাখানা চালাতেন, ফ্লোর ভাড়া দিতেন বেসরকারি সংস্থাকে।
•এই টাকা দিয়ে ১.৫ কোটি টাকার বিএমডব্লিউ কেনেন, ভুয়ো কূটনৈতিক নম্বরপ্লেট লাগানো এক ভলভোও বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
•আগেও ২০০৯ ও ২০১৬ সালে তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠে, কিন্তু তিনি প্রভাব খাটিয়ে আইনের প্রক্রিয়ার হাত থেকে বাঁচেন।
এবারের ঘটনায় তাঁর আগাম জামিন আবেদন প্রত্যাহার করা হলে দিল্লি পুলিশ লুকআউট নোটিস জারি করে। বিভিন্ন রাজ্যে তল্লাশি চালিয়েও তাঁকে এখনও ধরা যায়নি। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) পাতিয়ালা হাউস কোর্টে জামিনের রায় সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, সন্ধ্যায় বা শনিবার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে। দিল্লি পুলিশ আদালতকে জানিয়েছে, চৈতন্যানন্দ নিজেকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রতিনিধি বলে দাবি করেছেন।

