
দুর্যোগে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গে পৌঁছেই একতার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে পোস্টে লিখেছেন, ”সবার কাছে অনুরোধ, সাহস হারাবেন না, সংযম ও সতর্কতা বজায় রাখুন। সরকার ও প্রশাসন সর্বাত্মকভাবে মানুষের পাশে আছে এবং আমরা সবাই মিলে এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠব।”

২ দিনের উত্তরবঙ্গ সফরের শুরুতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন পোস্ট কোন প্রেক্ষিতে, তা কিন্তু তিনি খোলসা করেননি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য, দুর্যোগ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে বিজেপির যে দুই নেতা আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, সেই প্রক্ষিতেই সংযম এবং সতর্কতা বজায় রাখার অনুরোধ করেছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।

প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গে পৌঁছনোর আগেই বিপর্যস্ত এলাকাগুলিতে পৌঁছে গিয়েছিল বিজেপির বেশ কিছু বিধায়ক ও সাংসদদের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ক্ষয়ক্ষতি সরেজমিনে দেখার পাশাপাশি দলের পক্ষ থেকেও ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেওয়ার কাজেও তদারকি করেছেন। আর সেই কাজ করতে গিয়েই আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে শাসক-বিরোধী চাপান-উতোর।

মালদহ উত্তর কেন্দ্রের সাংসদ খগেন মুর্মু এবং শিলিগুড়ির পদ্ম বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ দুর্যোগকবলিত নাগরাকাটায় একাধিক এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে আক্রান্ত হন। অভিযোগ, সাংসদ-বিধায়কের উপর চড়াও হন কয়েকশো মানুষ। পাথর তুলে গাড়ি লক্ষ করে ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। মাথা ফেটেছে সাংসদ খগেন মুর্মুর। শারীরিক নিগ্রহের শিকার বিধায়ক শঙ্কর ঘোষও। দুজনেই বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এমনই আবহে দমদম থেকে বাগডোগরা পৌঁছেই একতার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ”আমার আন্তরিক আবেদন, এই দুর্যোগে বহু মানুষ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাঁদের কষ্ট আমরা গভীরভাবে অনুভব করছি। তবুও, এই কঠিন সময়েও আমাদের মনে রাখতে হবে, একতা ও ধৈর্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”
তিনি আরও লিখেছেন, ”দয়া করে শান্ত থাকুন, গুজবে কান দেবেন না এবং চারপাশের মানুষকে সহযোগিতা করুন। এই সময় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা কাম্য নয়, আমরা একে অপরের পাশে থেকে, একসাথে এই সংকটের মোকাবিলা করব।”

