
তবে বি আর গাভাইয়ের দিকে জুতো ছোড়ার এক দিন পর মঙ্গলবার আইনজীবী রাকেশ কিশোর জানিয়েছেন, তিনি যা করেছেন তা নিয়ে তিনি মোটেই অনুতপ্ত নন। তিনি প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে সনাতন ধর্মের অবমাননা করার অভিযোগও তুলেছেন।
কিশোর বলেন, “আমি এটি করিনি, ঈশ্বর করিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি সনাতন ধর্মকে উপহাস করেছেন। এটি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের আদেশ, একটি প্রতিক্রিয়া।”
এই ঘটনার পেছনে সম্প্রতি একটি মামলা নিয়ে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতির ভগবান বিষ্ণু সম্পর্কিত মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছিল। খাজুরাহোতে ৭ ফুট উচ্চতার একটি বিষ্ণুমূর্তি জাভেরি মন্দির সংস্কারের প্রয়োজনে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া সরিয়ে নেয়। সেটি পুনস্থাপনের জন্য জনস্বার্থ মামলা গ্রহণ করতে অস্বীকার করার সময় প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, “যাও, দেবতাকে নিজেই জিজ্ঞেস করো তিনি কী চান।”
অনেকেই এই মন্তব্যকে প্রধান বিচারপতির ভক্তদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি অসম্মানজনক হিসেবে দেখেছেন। পরে গাভাই বলেন, “কেউ আমাকে বলেছিল যে, আমার মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ভিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আমি সব ধর্মের প্রতি সম্মান প্রকাশ করি।”
৭১ বছর বয়সী আইনজীবী কিশোর সোমবার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতির দিকে জুতো ছোড়েন। যদিও জুতোটি বেঞ্চের সামনে গিয়ে পড়ে। আচমকা এই ঘটনা সত্ত্বেও প্রধান বিচারপতি শুনানি বন্ধ করেননি। তিনি বলেন, “আমি এমন ঘটনার কারণে বিচলিত নই, আপনারা সওয়াল চালিয়ে যান।”
জুতো ছোড়ার সঙ্গে সঙ্গেই কিশোরকে নিরাপত্তা কর্মীরা ধরে ফেলে হেফাজতে নেয়। পরে প্রধান বিচারপতি রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দেন যে, ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া তাঁকে সাসপেন্ড করে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানায়। কিশোর অভিযোগ করেন, “বার কাউন্সিল সীমা অতিক্রম করেছে। তারা আমাকে কোনও শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির কাছে পাঠানো বা কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়েই একতরফা সাসপেন্ড করেছে।”
কিশোরের এই ঘটনাকে দলমত নির্বিশেষে সকলেই তীব্র নিন্দা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি থেকে শুরু করে সমস্ত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এই ঘটনাকে বিচার ব্যবস্থার পাশাপাশি সংবিধানের ওপর আঘাত বলে উল্লেখ করেছেন।
