
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ রাজনীতির গতিপ্রকৃতির দিকে আলোকপাত করেছেন। তিনি দলেরই একাংশের নেতাদের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ও অহংকার নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা ধরে রাখতে দলের অভ্যন্তরীণ ইগো ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কমানো জরুরি।
একই সঙ্গে কুণাল ঘোষ আশা প্রকাশ করেছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস ২৫০টিরও বেশি আসন পেতে সক্ষম। তিনি মনে করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের ফলে সাধারণ মানুষ তৃণমূলের প্রতি আস্থা রাখছেন। কিছু এলাকায় স্থানীয় স্তরে মেরামতি ও সঠিক নেতৃত্বের চিহ্নিতকরণ প্রয়োজন। তিনি দলের নেতাদেরকে উৎসাহ দিয়েছেন যেন অর্গানিক আবেগ ও স্বাভাবিক উচ্ছ্বাস বজায় থাকে এবং কৃত্রিম বাতাবরণ তৈরি না হয়।
পাশাপাশি, নির্বাচনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) চালু করেছে। ২০২১ সালের মতো, আগামী ভোটও সম্ভবত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ঘোষণা হবে এবং মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কুণাল ঘোষের এই বার্তা দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখার পাশাপাশি বাহ্যিকভাবে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা। তৃণমূলের কার্যক্রম, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা এবং স্থানীয় নেতৃত্বের দক্ষতা মিলিয়ে ভোটের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হবে।
২০২৬-এর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সুশৃঙ্খলতা, নেতৃত্বের স্বচ্ছতা এবং জনগণের সঙ্গে সংযোগই হবে আসন্ন নির্বাচনে দলের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
