
জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন অবৈধভাবে বসবাসরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। জম্মুর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা রোহিঙ্গা শিবিরে জল ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, যেসব রোহিঙ্গা শরণার্থী বৈধ নথি ছাড়াই বসবাস করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা বহু রোহিঙ্গা পরিবার গত কয়েক বছরে জম্মুর নানা এলাকায় বসতি স্থাপন করেছে। অভিযোগ, তারা জাল আধার ও নথি ব্যবহার করে সরকারি পরিষেবা যেমন জল, বিদ্যুৎ এবং স্বাস্থ্যসুবিধা পাচ্ছিল। প্রশাসনের মতে, এ ধরনের বেআইনি কাজকর্ম রুখতেই এই পদক্ষেপ।
এক শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক জানিয়েছেন, “প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে জল ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা হয়েছে। এখন সব নথি খতিয়ে দেখা হবে। যাদের বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যাবে না, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, রোহিঙ্গা শিবিরগুলি সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও অভিযোগ করেছেন, এই শিবিরগুলির কারণে এলাকায় অবৈধ জমি দখল, চুরি–ডাকাতি ও বেআইনি ব্যবসা বেড়েছে।
বিজেপি প্রশাসনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। দলের এক নেতা বলেন, “দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় এটি প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত।” তবে বিরোধী দলগুলির মতে, মানবিক দিকটি বিবেচনায় রেখে সরকারকে সংবেদনশীলভাবে বিষয়টি সামলাতে হবে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই ব্যবস্থা কেবল প্রথম ধাপ। এরপর প্রতিটি রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দাদের পরিচয় ও কাগজপত্র পরীক্ষা করা হবে। যাদের বৈধ নথি নেই, তাঁদের ‘পুনর্বাসনের’ ব্যবস্থা করা হবে। বৈধতা না পাওয়া পর্যন্ত ওই শিবিরগুলিতে কোনও পরিষেবা পুনরায় চালু হবে না। যদিও প্রশাসনিকভাবে ‘পুনর্বাসন’-এর কথা বলা হলেও তাদের ভবিষ্যৎ ঠিকানার দায়িত্ব প্রশাসন নেবে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
