
রাজ্যে চলেছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া। এই ফর্ম বিলির মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও গিয়েছিলেন বুথ স্তরের আধিকারিকরা। তবে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যের প্রত্যেক নাগরিক যতক্ষণ না ফর্ম পূরণ করছেন, ততক্ষণ তিনিও করবেন না। যদিও নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী তাঁর ক্ষেত্রে এই ফর্ম পূরণ বাধ্যতামূলক নয়।
কমিশনের বিধি বলছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘চিহ্নিত ভোটার’ বা ‘মার্কড ইলেক্টর’। অর্থাৎ আগে থেকেই তাঁর নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে নথিভুক্ত হয়। দেশের প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতারা এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত। ফলে তাঁদের এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
বুধবার ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে মোট ৪০টি ফর্ম পৌঁছে দেন বিএলও ও তাঁর সুপারভাইজার। মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী ফর্ম দেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর ভাই অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় ও নিরাপত্তা আধিকারিক জয়দীপ জানা, যিনি ফর্মগুলিতে স্বাক্ষর করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোটার এবং সেই কেন্দ্রের বিধায়ক। ৭৭ নম্বর বুথে তাঁর নাম নথিভুক্ত, যেখানে তিনি প্রতি নির্বাচনে ভোট দেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে এই এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি প্রথম থেকেই আপত্তি জানিয়ে এসেছেন। তাঁর দাবি, এটি রাজ্যে এনআরসি বাস্তবায়নের একটি প্রচেষ্টা। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, এসআইআর কেবল মৃত ও অবৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া, আতঙ্কের কিছু নেই।
মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনার ঝড় উঠলেও কমিশন সূত্রে স্পষ্ট, নিয়ম অনুসারেই তাঁর ক্ষেত্রে ফর্ম না ভরলেও কোনও সমস্যা হবে না।
