
তিন বছর দীর্ঘ কারাবাসের পর অবশেষে মুক্তি পেলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২২ সালের জুলাই মাসে ইডি তাঁকে গ্রেফতার করেছিল। সেই সময় তাঁর নাকতলার বাসা ও ঘনিষ্ঠ অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনার গয়না উদ্ধার হওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছিল।
গত কয়েক মাস ধরে অসুস্থতার কারণে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে সেখান থেকেই মুক্তি পান তিনি। হাসপাতালের বাইরে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যম ও অনুগামীদের দিকে হাত জোড় করে কৃতজ্ঞতা জানান, যদিও মুখে কোনো কথা বলেননি। চোখেমুখে ক্লান্তি আর স্বস্তির ছাপ স্পষ্ট ছিল তাঁর।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সিবিআইয়ের জমা দেওয়া আট জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পরই তাঁর মুক্তির পথ খুলে যায়। সোমবার শেষ সাক্ষীর জবানবন্দি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আদালত জানায়, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আর জেলবন্দি থাকার প্রয়োজন নেই। এরপরই মুক্তির নির্দেশ কার্যকর হয়।
গ্রেফতারের পর থেকে একাধিকবার জামিনের আবেদন করলেও প্রতিবারই আদালত তা খারিজ করে দিয়েছিল। অবশেষে সর্বোচ্চ আদালতের শর্তসাপেক্ষ নির্দেশেই তাঁর মুক্তি সম্ভব হয়েছে।
তবে এখনো তিনি নির্দোষ প্রমাণিত নন। ইডি ও সিবিআই উভয় সংস্থাই তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে, এবং মামলার শুনানি চলছে। তাই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে তাঁর সাসপেনশন কি তুলবে তৃণমূল, নাকি তাঁকে এখনও দূরত্বেই রাখবে দল?
দীর্ঘ কারাবাস, অসুস্থতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পর এই মুক্তি নিঃসন্দেহে এক বড় স্বস্তির মুহূর্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জীবনে। তবে ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও আদালতের রায়ই ঠিক করবে তাঁর পথচলার নতুন অধ্যায়।
