
রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে আরও আগ্রাসী রূপ নিচ্ছে এবার লক্ষ্য আকাশপথে ধ্বংসযজ্ঞ। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মধ্যেই রাশিয়া প্রায় ১,২০,০০০ গ্লাইড বোমা তৈরি করতে পারে। এই বোমাগুলো প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় বহু সস্তা, কিন্তু ধ্বংসক্ষমতা কম নয়। ডানা বা ছোট ইঞ্জিন লাগানো হওয়ায় এগুলো কয়েক দশ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছতে পারে, আর রুশ জেটকে সীমান্তের কাছে ঝুঁকি নিতে হয় না।
ইউক্রেন দাবি করেছে, বর্তমানে প্রতিদিন ২০০-২৫০টি গ্লাইড বোমা ছুড়ছে রুশ বাহিনী। গত মাসে এই সংখ্যা ছিল গড়ে ১৭০। খারকিভ, খেরসনসহ ফ্রন্টলাইন শহরগুলোতে এই বোমা তাণ্ডব চালাচ্ছে। প্রতিটিতে কয়েকশো কেজি বিস্ফোরক থাকে, যা সহজেই ভবন বা বাংকার ভেদ করতে পারে।
সবচেয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নতুন সংস্করণ। ইউক্রেন জানিয়েছে, রাশিয়া এমন এক গ্লাইড বোমা তৈরি করছে যার নাগাল ২০০ কিমি পর্যন্ত। এ বছরই প্রায় ৫০০টি বানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আরও ভয়াবহ বিষয় ৪০০ কিমি পর্যন্ত পৌঁছতে পারে এমন মডেল তৈরির কাজও নাকি চলছে। ফলে সামনের শহরগুলো তো বটেই, আরও ভেতরের এলাকাও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
ইউক্রেন মনে করছে, এমন তীব্র আক্রমণ রাশিয়ার রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ শীতকালে জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করে কিয়েভকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করা। শুধু বোমা নয়, রাশিয়া ড্রোন উৎপাদনও বাড়িয়েছে। ইউক্রেনের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রাশিয়া ৭০,০০০ ড্রোন তৈরি করতে পারে, যার মধ্যে ৩০,০০০ শাহেদ মডেল।
এদিকে উত্তর কোরিয়াও নাকি রাশিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে গুলি ও ড্রোন সরবরাহ করছে। ইউক্রেন দাবি করেছে, ২০২৩ সাল থেকে ৬.৫ মিলিয়ন আর্টিলারি শেল রাশিয়ায় পাঠিয়েছে পিয়ংইয়ং। যদিও পুরনো ও অকার্যকর হওয়ায় বহু শেল রাশিয়ার কারখানায় পুনরুদ্ধার করতে হচ্ছে।
ইউক্রেনের দাবি এই অস্ত্রবৃদ্ধি শুধু যুদ্ধ নয়, কৌশলগত চাপেরও অংশ। কিয়েভের আশঙ্কা, পোকরোভস্ক কৌশলগত শহরটি পুরো দখলে এলে রুশ বাহিনী ডোনেস্কের গভীরভাগে এগোতে প্রস্তুত।
