
মার্কিন কংগ্রেসওম্যান মার্জোরি টেলর গ্রিনের নতুন প্রস্তাব ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়েছে বড়সড় উদ্বেগ। তিনি এমন একটি বিল আনতে চলেছেন, যা কার্যত প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে H-1B ভিসা ব্যবস্থাকে। বর্তমানে বছরে ৮৫,০০০ ভিসা দেওয়া হয়, কিন্তু গ্রিনের পরিকল্পনা সেই সংখ্যা কমিয়ে মাত্র ১০,000-এ নামিয়ে আনা। তাও শুধুমাত্র মেডিক্যাল পেশাজীবীদের জন্য। বাকি সব ক্ষেত্রেই ভিসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
ওয়াশিংটনের অভিবাসন নীতি বিশেষজ্ঞ সারাহ পিয়ার্স সতর্ক করেছেন এই বিল বাস্তবায়িত হলে আমেরিকার স্বাস্থ্যব্যবস্থাই প্রথম ধাক্কা খাবে। বিশেষত গ্রামীণ এলাকাগুলোতে বিদেশি চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরতা বেশি। ভিসার সংখ্যা এত কমে গেলে চিকিৎসক সংকট আরও বাড়বে, জরুরি পরিষেবায় বিলম্ব হবে এবং বহু প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর সম্ভাবনা বাড়বে বলে মনে করছেন তিনি। শুধু স্বাস্থ্যক্ষেত্র নয়, উচ্চ প্রযুক্তি খাতও বড় ক্ষতির মুখে পড়বে। মার্কিন শিল্পক্ষেত্রে বহু বছর ধরেই ভারতীয় আইটি কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই নতুনভাবে ভিসা আবেদনকারীদের ওপর ১ লক্ষ ডলারের বিশাল ফি আরোপ করেছেন। সেই সিদ্ধান্তের পর আবারও H-1B সীমিত করার দাবি উঠতেই দেশজুড়ে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। রিপাবলিকানদের একাংশ মনে করেন দেশীয় কর্মসংস্থান রক্ষায় এই বিল প্রয়োজন, কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আমেরিকার অর্থনীতির স্বার্থের পরিপন্থী।
মার্কিন শ্রম দফতর ইতিমধ্যেই H-1B অপব্যবহারের অভিযোগে ১৭৫টি তদন্ত শুরু করেছে, আর একাধিক মামলা আদালতে চলছে। তবে এই আইনি লড়াই চলাকালীন ভারতীয় পেশাজীবীদের উদ্বেগ বাড়ছে। ২০২৪ সালে মোট অনুমোদিত H-1B ভিসার প্রায় ৭০ শতাংশই ভারতীয়দের ছিল। তাই এই বিল পাস হলে সরাসরি সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগবে ভারতীয় প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের ওপরই।
