
পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ ই মহম্মদের বিরুদ্ধে আবারও বড় হামলার প্রস্তুতির অভিযোগ উঠেছে। গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণের তদন্তে এমন বেশ কয়েকটি সূত্র মিলেছে যা থেকে পরিষ্কার, সংগঠনটি নতুন ফিদায়িন বাহিনী তৈরি করছে এবং তার জন্য সক্রিয়ভাবে অর্থ সংগ্রহ শুরু করেছে। গত ১০ নভেম্বর লালকেল্লার কাছে একটি গাড়ি বিস্ফোরণে ১৫ জনের মৃত্যু হয়। সেই হামলার সঙ্গে যুক্ত ডক্টর উমার মোহাম্মদ ঘটনাস্থলেই মারা যায়। তদন্তকারীরা বলছেন, হামলার পরিকল্পনা এবং বিস্ফোরক তৈরির বড় অংশই লালকেল্লার পার্কিং এলাকায় সম্পন্ন হয়েছিল।
সূত্রের দাবি, জইশের নেতৃত্ব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাকিস্তানের সাদাপে নামের একটি অ্যাপ ব্যবহার করে তহবিল সংগ্রহ শুরু করেছে। সামান্য পরিমাণ অনুদানের বিনিময়ে শীতের পোশাক, জুতো, তাঁবু, ম্যাট্রেসের মতো সামগ্রী সংগ্রহের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যা মাঠে থাকা জঙ্গিদের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন। এই অর্থ দ্রুত বিভিন্ন স্লিপার সেল ও হামলার প্রস্তুতিতে থাকা দলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। তদন্তকারীরা জানান, বিস্ফোরণে যুক্ত দশ সদস্যের তথাকথিত টেরর ডাক্তার দলের কাছেও এই রকম অর্থ পৌঁছানোর প্রমাণ মিলেছে।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সংগঠনটি নারীদের ব্যবহার করে হামলার পরিকল্পনা করছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জইশের মহিলাদের বিশেষ ইউনিট জামাত উল মুমিনাতে সাদিয়া আজহার এবং শাহিনা সাঈদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে। শাহিনা নাকি কোডনেম মাদাম সার্জন নামে কাজ করতেন এবং বিস্ফোরণের আগে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
এখন গোয়েন্দারা ডিজিটাল ফান্ডিং চক্রের উৎস ও নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করতে পৃথক তদন্ত শুরু করেছেন। পরপর একাধিক হামলার হুমকি এবং সক্রিয় তহবিল সংগ্রহের প্রমাণ মিলতে থাকায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলিতে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।
