
দিল্লির বায়ু মান সূচক আরও খারাপ হয়েছে, শহরের বেশির ভাগ এলাকা এখন ‘সেভিয়ার’ মাত্রার নিচে নেমে গেছে। চিকিৎসকরা পরিস্থিতিকে ‘জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সরকারি সমীর অ্যাপ অনুযায়ী শুক্রবার সকাল ৯টায় দিল্লির ২৪ ঘণ্টার গড় এএকিউআই ৩৭০ রেকর্ড করা হয়েছে। এটি ধারাবাহিকভাবে অষ্টম দিন যে এএকিউআই ‘ভেরি পুওর’ কেটাগরিতে রয়েছে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ধীরে ধীরে বায়ুদূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে।
দিল্লির ১৮টি মনিটরিং স্টেশন ৪০০-এর উপরে এএকিউআই দেখিয়েছে। বিশেষ করে চাঁদনী চৌক, আনন্দ বিহার, মুন্ডকা, বাওয়ানা, নরেলায় এই মান নিয়মিতভাবে ৪০০–৪৫০ সীমার মধ্যে রয়েছে। ভ্যাস্ট্রিক ও শস্য পোড়ানোর কারণে দূষণের মাত্রা কিছুটা অবদান রাখলেও, মূলত যানবাহনের ধোঁয়া এবং শীতকালীন স্থির বাতাস বায়ুদূষণকে তীব্র করছে। উপগ্রহ তথ্য অনুযায়ী, পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশে কয়েকটি ছোটখাটো আগুন লক্ষ্য করা গেছে যা ব্যাকগ্রাউন্ড দূষণকে বাড়াচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে শ্বাসনালী ও দূষণ সংক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০–১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষকে মাস্ক বা এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করা বললেও তা সীমিত সুরক্ষা দেয়। স্থানীয় সার্ভে অনুযায়ী, দিল্লি-এনসিআর এলাকার ৮০ শতাংশ পরিবারে কমপক্ষে একজন ব্যক্তি দূষণজনিত অসুখে ভুগেছেন। অনেকের কাশি, চোখ জ্বালা, শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমা আরও খারাপ হচ্ছে।
সুপ্রীম কোর্ট স্কুলের আউটডোর কার্যক্রম স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মাসিক মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে। সাধারণ মানুষও বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ করছেন, কারণ বার্ষিক রাজনৈতিক উদাসীনতার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
দিল্লির বায়ু দূষণ এখন শুধুমাত্র শ্বাসনালী নয়, হৃদয়, মস্তিষ্ক এবং অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকেও প্রভাবিত করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জীবনকাল হ্রাস করতে পারে।
