
বীরভূমের রামপুরহাটে তৃণমূলের এক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে উত্তাল রাজনৈতিক মহল। দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্কের নামে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে ওই কাউন্সিলর সিউড়ির জেলা বিচারকের আদালতে জামিন চেয়েছিলেন। তবে বিচারক মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে তাঁর আবেদন খারিজ করেন। অভিযোগ দায়ের হওয়ার প্রায় তিন সপ্তাহ কেটে গেলেও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ, আর সেই কারণেই উঠে আসছে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার প্রশ্ন।
ঘটনার সূত্র ২৯ অক্টোবর। নির্যাতিতা অভিযোগ করেছেন, পুরসভার ওই কাউন্সিলর দীর্ঘদিন ধরে বিবাহের আশ্বাস দেখিয়ে তাঁকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেছেন। অভিযুক্ত যে বিবাহিত, তা ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন রেখেছিলেন বলেও দাবি। সম্পর্ক চলাকালীন একাধিকবার নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে এবং ২০২০ সালে তাঁদের এক সন্তানও জন্মায়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই নির্যাতিতার স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা শুরু হয়, যা এখনও চলছে।
অভিযোগ দায়েরের পর ৩ নভেম্বর কাউন্সিলর আদালতে জামিন চান। নির্দিষ্ট দিনে শুনানি পিছিয়ে যায়। পরে ফের শুনানিতে আদালত স্পষ্ট করে জানায়, এত গুরুতর অভিযোগে জামিনের সুযোগ নেই। স্থানীয় মহলের মতে, জামিন খারিজ হওয়ায় গ্রেফতার এখন সময়ের অপেক্ষা, যদিও পুলিশ এখনও তাঁকে আটক করতে পারেনি।
নির্যাতিতার ক্ষোভ আরও বেড়েছে। তাঁর দাবি, অভিযুক্ত প্রকাশ্যেই এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন, উলটে তাঁকেই নানা হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের কাছে সাহায্য চাইলে সাড়া মেলেনি বলেই অভিযোগ। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, শাসকদলের প্রভাবশালী কাউন্সিলর হওয়ায় তদন্তের গতি শ্লথ।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, অভিযোগ প্রকাশ পেতেই কাউন্সিলরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে স্থানীয় মানুষের দাবি, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা আরও সঙ্কটে পড়বে।
