
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে ফের নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি পাঠালেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, দিঘায় আয়োজিত নারী পুলিশ কর্মীদের দ্বিতীয় রাজ্য সম্মেলন আসলে পুলিশের নামে তৃণমূলের প্রকাশ্য রাজনৈতিক জমায়েতে পরিণত হয়েছে।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ২২ নভেম্বরের ওই অনুষ্ঠানে কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত থাকলেও মূল লক্ষ্য ছিল তৃণমূলের রাজনৈতিক প্রচার। শুভেন্দুর দাবি, ওয়েলফেয়ার কমিটির আড়ালে এক হাজারেরও বেশি পুলিশ ও বিপুল সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়মিতভাবে শাসকদলের নির্বাচনী কাজে যুক্ত রয়েছেন। বিভিন্ন র্যালিতে অংশগ্রহণ, দলীয় টি-শার্ট পরে প্রচার এবং সংবাদমাধ্যমে পক্ষাবলম্বন সব কিছুই নাকি কমিটির ব্যানারে চলে।
তিনি অভিযোগ করেছেন, অনুষ্ঠানে কিছু পুলিশ অফিসারের বক্তব্য ছিল প্রকাশ্য রাজনৈতিক বার্তার মতো। মুখ্যমন্ত্রীকে ‘অভিভাবক’ হিসেবে তুলে ধরা এবং নির্বাচনে তাঁকে সাহায্যের আহ্বান করা পুলিশের নিরপেক্ষতার পরিপন্থী বলেই দাবি তাঁর। চিঠিতে তিনি আরও বলেন, মঞ্চে উপস্থিত রাজ্যের কয়েকজন মন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেছিলেন, আর সে সময় ইউনিফর্মে থাকা পুলিশ সদস্যরা সামনে বসে ছিলেন যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে বিপজ্জনক।
শুভেন্দুর অভিযোগ, পুলিশ ওয়েলফেয়ার কমিটির কাঠামো ইচ্ছাকৃতভাবে অস্পষ্ট রেখে এটিকে তৃণমূলের স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। বুথ দখল থেকে পোস্টাল ব্যালট নিয়ন্ত্রণ বিগত বছরগুলোতে নির্বাচন ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের অভিযোগও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এই সবকিছুর প্রেক্ষিতে তিনি কমিশনের কাছে চার দফা পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন ওয়েলফেয়ার কমিটির বিরুদ্ধে তদন্ত, যুক্ত অফিসারদের শাস্তি ও বদলি, রাজ্য পুলিশের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং কমিটির জন্য স্বচ্ছ গাইডলাইন তৈরি।
বিরোধী দলনেতার দাবি, কমিশন অবিলম্বে ব্যবস্থা না নিলে আগামী নির্বাচন আদৌ নিরপেক্ষ হবে কি না তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠবে।
