
একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেই তৃণমূল নেতৃত্ব ইঙ্গিত দিয়েছিল ভোটার তালিকার ‘নিবিড় পরিমার্জন’ বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনও গোলমাল দেখা দিলে সরাসরি দিল্লি পৌঁছতে সময় লাগবে না। সেই সতর্কবার্তার কয়েক মাসের মধ্যেই বাস্তব ছবি মিলল শুক্রবার। সকালে তৃণমূলের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল, সাংসদ ডেরেক ও’ ব্রায়েনের নেতৃত্বে, নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে হাজির হয়। এই প্রতিনিধি দলকে ভার্চুয়াল বৈঠকেই গঠন করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, দোলা সেন, মহুয়া মৈত্র, প্রকাশ চিক বরাইক, সাজদা আহমেদ, মমতাবালা ঠাকুর, প্রতিমা মণ্ডল এবং সাকেত গোখলে সকলেই উপস্থিত ছিলেন।
কমিশনের সঙ্গে প্রায় দু’ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠকের আগে তৃণমূল সাংসদরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের হাতে তুলে দেন একটি ৪০ জনের মৃতের তালিকা। ডেরেক দাবি করেন, এসআইআর-এর জেরে এই মৃত্যুগুলি ঘটেছে, এবং “কমিশনের হাতেই রক্ত লেগে রয়েছে।” প্রতিনিধি দল কমিশনের সামনে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে ত্রিপুরায় এসআইআর কার্যকর না হওয়ার কারণ, ভুয়ো ভোটার তত্ত্বে কেন্দ্র-রাজ্য নির্বাচনের বৈধতা, বিএলওদের মৃত্যুতে কমিশনের দায়, বিজেপির ‘এক কোটি ভোটার বাদ’ মন্তব্যে আতঙ্ক তৈরির অভিযোগ, এবং বাংলা সহায়তা কেন্দ্রের কর্মীদের কাজে কমিশনের আপত্তি প্রতিটি প্রশ্নই তৃণমূলের মতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
তবে বৈঠকের শেষে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই পাঁচটি প্রশ্নের স্পষ্ট কোনও উত্তর কমিশন দেয়নি। শতাব্দীর হাতে দেওয়া মৃতের তালিকা দেখে কমিশনার বিস্মিত হলেও, মূল প্রশ্নগুলির ব্যাখ্যা এড়িয়ে গিয়েছে কমিশন এই অভিযোগ তৃণমূলের। দলের বক্তব্য, তারা এসআইআর-এর বিরোধী নয়, কিন্তু তা সঠিক ও মানবিক পদ্ধতিতে প্রয়োগের দাবি রাখছে। এখন নজর রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপে।
