
ঘূর্ণিঝড় দিতোয়া দক্ষিণ ভারতের দিকে এগোনোর আগেই শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক ধ্বংস ডেকে এনেছে। দ্বীপরাষ্ট্রজুড়ে ভয়াবহ বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। সরকারি হিসেবে এখন পর্যন্ত ৫০ জনের প্রাণহানি নিশ্চিত হয়েছে, আরও বহু মানুষ নিখোঁজ বলে আশঙ্কা। প্রবল বর্ষণে শ্রীলঙ্কার প্রায় সব নদীর জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গেছে। একাধিক এলাকায় ঘরবাড়ি ভেসে গেছে, রাস্তাঘাট ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বহু অঞ্চল। পরিস্থিতি সামলাতে সরকার জরুরি নির্দেশ জারি করেছে আজ দেশের সব সরকারি অফিস বন্ধ, আন্তর্জাতিক স্কুলেও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
কলম্বো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সমস্যা দেখা দিলে বিমানকে তিরুবনন্তপুরম বা কোচিতে ঘোরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় উদ্যানগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সকাল থেকে সব ট্রেন পরিষেবা স্থগিত। উদ্ধারকাজে সেনা, নৌবাহিনী ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বহু জায়গায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, ফলে প্রশাসনের পক্ষে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি।
একই সঙ্গে দক্ষিণ ভারতের উপকূলেও উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তামিলনাড়ুর চারটি জেলায় রেড অ্যালার্ট এবং ছয়টি জেলায় অরেঞ্জ অ্যালার্ট কার্যকর রয়েছে। সতর্কতা হিসেবে চেন্নাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ জলাধারগুলি থেকে অতিরিক্ত জল ছাড়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন দুর্যোগ মোকাবিলা দফতরে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন।
মৌসম দফতর জানিয়েছে, দিতোয়া নামের এই ঘূর্ণিঝড় বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়ে দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করছে। ৩০ নভেম্বর পুদুচেরি ও দক্ষিণ অন্ধ্রের উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আগের ঘূর্ণিঝড় সেনিয়ার শক্তি হারালেও, দিতোয়ার প্রভাব কতটা ভয়াবহ হবে তা পরিস্থিতি স্পষ্ট হলে বোঝা যাবে। বর্তমান অবস্থায় উপকূলবর্তী সব রাজ্যকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
