
ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইলের ফিতা করা এলাকায় সম্প্রতি দেখা মিলেছে এক অদ্ভুত উদ্ভিদের, যাকে স্থানীয়রা ইতিমধ্যেই মাংসাশী উদ্ভিদ বলে চিহ্নিত করতে শুরু করেছে। বহুদিন ধরে যে ধরনের প্রজাতি আমাজন অরণ্যে দেখা যায় বলে ধারণা করা হত, ঠিক তেমনই দেখতে এই ছোট আকৃতির লাল-কমলা বর্ণের গাছটি এলাকাজুড়ে তৈরি করেছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। সমাজ মাধ্যমে ছবিগুলি ছড়িয়ে পড়তেই মানুষের কৌতূহল এবং উদ্বেগ আরও বেড়ে গেছে।
উদ্ভিদটি মূলত পাথরঘেরা জলা জায়গায় জন্ম নিচ্ছে। রং উজ্জ্বল হওয়ায় পোকামাকড় সহজেই এর দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে এবং সেগুলিই এই উদ্ভিদের মূল খাবার বলে মনে করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রথম নজরে উদ্ভিদটিকে সাধারণ গাছের মতোই লাগলেও কাছ থেকে দেখলে ছোট্ট পাতার ভাঁজে লেগে থাকা পোকামাকড় স্পষ্ট বোঝা যায়।
বিশেষজ্ঞ মহলের অনেকে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন, এটি সূর্যশিশে বা সানডি পরিবারের কোনো পরিবর্তিত রূপ হতে পারে। পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গল লাগোয়া অঞ্চল বহুদিন ধরেই এ ধরনের কিছু আফ্রিকান প্রজাতির উদ্ভিদের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। তবে সেসব উদ্ভিদ মানুষের বা বৃহৎ প্রাণীর ক্ষতি করে না। ঝাড়গ্রামের এই নতুন উদ্ভিদও সেই ধরণেরই হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
গত বছর বাঁকুড়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কিছু বনাঞ্চলেও অনুরূপ উদ্ভিদের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল। এবার গড়বেতা এবং ঝাড়গ্রামে সেই তালিকায় যোগ হওয়ায় বনাঞ্চলে নতুন এক জীববৈচিত্র্যের রহস্য তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন এবং বনদপ্তর উদ্ভিদটির নমুনা সংগ্রহ করেছে বলে জানা গেছে। শীঘ্রই এর জিনগত পরীক্ষা ও উৎস সম্পর্কে সরকারি পর্যায়ের রিপোর্ট প্রকাশ পাবে। আপাতত বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে ভয় না পেয়ে উদ্ভিদটিকে দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছেন, কারণ এটি শুধুমাত্র ক্ষুদ্র পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকে এবং মানুষের জন্য কোনো বিপদ নেই।
