
মুর্শিদাবাদের মাটিতে আগামী ৬ ডিসেম্বর ‘বাবরি মসজিদ স্থাপন’-এর ঘোষণা করে রাজনৈতিক তরঙ্গ তৈরি করেছেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত নেতা হুমায়ুন কবীর। তাঁর এই কর্মসূচি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয় জনস্বার্থ মামলা অভিযোগ, উত্তেজনা ছড়াতে পারে এমন কর্মসূচিতে আদালতকে হস্তক্ষেপ করা উচিত। তবে শেষ পর্যন্ত বিচারপতি মানস মুখোপাধ্যায় ও বিচারপতি মনোজ বাজপেয়ির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিলেন, এই মুহূর্তে আদালতের পক্ষ থেকে কোনও হস্তক্ষেপ করা হবে না।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, একজন নাগরিক বা রাজনৈতিক নেতার সভা বা কর্মসূচিকে আগেভাগে নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা আদালত ব্যবহার করতে পারে না, যদি না স্পষ্টভাবে দেখা যায় যে তা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাবে। বেঞ্চ আরও জানায়, পরিস্থিতি মোকাবিলার মূল দায়িত্ব রাজ্য প্রশাসনের। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য উত্তেজনাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা, সবই সরকারের কর্তব্য। প্রয়োজনে পুলিশ প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও আদালতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়।
হুমায়ুন কবীর অবশ্য নিজের কর্মসূচি যে শান্তিপূর্ণ হবে, তা আগেই দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এটি কোনও রাজনৈতিক প্রচার নয়, বরং ‘ঐতিহাসিক অন্যায়ের প্রতি প্রতীকী প্রতিবাদ’। যদিও বিরোধী দলগুলি অভিযোগ তুলেছে, সংবেদনশীল দিনে এই ধরনের কর্মসূচি রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত, হাইকোর্টের এই মন্তব্যে বল এখন সম্পূর্ণভাবে রাজ্য প্রশাসনের কোর্টে। ৬ ডিসেম্বর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে সবপক্ষ।
