
আরবিট্রেশন অ্যান্ড কনসিলিয়েশন বিল, ২০২৪-এ থাকা ‘টার্মিনেশন’ সংক্রান্ত অস্পষ্টতা দূর করতে সংসদকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জে.বি. পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর. মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আরবিট্রেশন প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়ার পর আইনে প্রতিকারের পথ পরিষ্কারভাবে উল্লেখ না থাকা “গুরুতর আইনি ত্রুটি”, যা অবিলম্বে সংশোধন করা প্রয়োজন।
বেঞ্চ জানায়, ১৯৯৬ সালের আইনেও এই সমস্যা রয়ে গিয়েছিল, কিন্তু নতুন প্রস্তাবিত বিলে তা সমাধানের কোনও উদ্যোগই দেখা যাচ্ছে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, টার্মিনেশন সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারা একত্রিত করে একটি প্রয়োগযোগ্য স্পষ্ট বিধান তৈরি করা উচিত। আন্তর্জাতিক SIAC নিয়মাবলীর মতো ডিফল্ট, উইথড্রয়াল, সেটেলমেন্ট বা ফি-সংক্রান্ত টার্মিনেশনের বিষয়গুলিও একই ধারা বা অধ্যায়ে আনা যেতে পারে।
আদালত আরও জানায়, টার্মিনেশন অর্ডারের প্রকৃতি, তার আইনি প্রভাব এবং ট্রাইবুনাল সেই অর্ডার ‘রিকল’ করতে পারবে কি না এসব বিষয় বিলে স্পষ্ট উল্লেখ থাকা উচিত। পাশাপাশি, টার্মিনেশন অর্ডারের বিরুদ্ধে আপিলের আইনি সুযোগও যুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে, ঠিক যেমন জুরিসডিকশন সংক্রান্ত আপত্তি মঞ্জুর হলে আপিল করা যায়।
এই অস্পষ্টতার কারণে দেশে বিভিন্ন আদালতে পরস্পরবিরোধী ব্যাখ্যা তৈরি হয়েছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে বলে মন্তব্য বেঞ্চের। দীর্ঘ তিন দশক পরও এমন প্রাথমিক প্রক্রিয়াগত জট কাটেনি একে আদালত “দুর্ভাগ্যজনক” বলে বর্ণনা করেছে।
সমাধান হিসেবে আদালত তিন-স্তরের পথনির্দেশ দিয়েছে প্রথমে ট্রাইবুনালের কাছে রিকল আবেদন, ব্যর্থ হলে আদালতে চ্যালেঞ্জ, এবং আদালতের বিবেচনায় টার্মিনেশন বাতিল করে প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করা বা নতুন আরবিট্রেটর নিয়োগ করা। তবে নতুন করে আরবিট্রেশন শুরু করার সুযোগ থাকবে না।
আরবিট্রেশন বিশেষজ্ঞরাও রায়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, স্পষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি হলে আরবিট্রেশন ব্যবস্থার ওপর আস্থা বাড়বে এবং অপ্রয়োজনীয় সংশয় দূর হবে।
