
শীতের হাওয়া নামতেই মাথার ত্বকে খুশকির উপদ্রব যেন হঠাৎই বেড়ে যায়। শুষ্ক আবহাওয়া, ত্বকের রুক্ষতা আর অতিরিক্ত চুল পড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই খুশকির সমস্যা অনেককেই নাজেহাল করে তোলে। বাজারে নানা রকম অ্যান্টি-ড্যানড্রফ শ্যাম্পু থাকলেও, ঘরেই এমন কিছু সহজ উপায় রয়েছে যা ব্যবহার করলে ফল মেলে দ্রুত এবং নিরাপদে। প্রাকৃতিক উপাদানের এই টোটকাগুলি যেমন সহজলভ্য, তেমনই দীর্ঘমেয়াদে মাথার ত্বককেও রাখে সুস্থ ও আর্দ্র।
টক দইয়ের যত্ন:
দই মাথার ত্বকের জন্য এক কার্যকর প্রাকৃতিক কন্ডিশনার। খুশকির জন্য দায়ী ছত্রাকীয় সংক্রমণ কমাতেও দই দারুণ কাজ করে। আধ কাপ টক দই মাথার ত্বকে ভালো করে মালিশ করে ২০ মিনিট রেখে দিন। সপ্তাহে দু’বার এই পদ্ধতি মেনে চললে খুশকির পরিমাণ চোখে পড়ার মতো কমে।
লেবুর খোসার স্নান:
লেবুর খোসা প্রাকৃতিক অ্যাসিডে ভরপুর, যা ত্বকের পিএইচ ব্যালেন্স ঠিক রাখতে সাহায্য করে। ৪–৫টি লেবুর খোসা জলসহ ২০ মিনিট ফুটিয়ে ঠান্ডা করে নিন। তারপর সেই মিশ্রণ মাথার ত্বকে লাগিয়ে আধ ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করুন। এতে ত্বক থেকে শুষ্ক স্ক্যাল্প ও খুশকি ধীরে ধীরে উঠে যায়।
পাকা কলা-মধু-পাতিলেবু মিশ্রণ:
এই মিশ্রণ চুলে পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি ত্বকে আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনে। একটি পাকা কলা, এক চামচ মধু ও পাতিলেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগান। ২০ মিনিট পরে শ্যাম্পু করে নিন। এরপর ফুটানো অ্যালো ভেরা রস ঠান্ডা করে মাথায় লাগান। ৩০ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন। এতে খুশকি কমে এবং চুল হয় নরম ও মসৃণ।
শীতকালের রুক্ষ আবহাওয়ায় চুলের সঠিক যত্ন না নিলে খুশকি ফের মাথাচাড়া দেয়। তাই ঘরোয়া এই উপায়গুলি নিয়মিত ব্যবহার করলে শীতেও মাথার ত্বক থাকবে আরামদায়ক, পরিষ্কার এবং খুশকিমুক্ত।
