
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিয়োনেল মেসির অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত আরও এক ধাপ এগোল। বুধবার বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের নাম রূপক মণ্ডল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেই তাঁকে শনাক্ত করা হয়। রূপকের বাড়ি ইএম বাইপাস সংলগ্ন চিংড়িঘাটার সুকান্তনগর এলাকায়। এই নিয়ে যুবভারতীতে ভাঙচুরের ঘটনায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ছয়।
ঘটনার তদন্তে রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট বুধবার সকাল থেকেই সক্রিয় হয়। চার জন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক নিয়ে গঠিত সিট প্রথমে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ভাঙচুরের জায়গা, গ্যালারি, ফেন্সিং এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। পরে তাঁরা বিধাননগর কমিশনারেটের অফিসে গিয়ে পরবর্তী তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার লিয়োনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে যুবভারতীতে বিপুল ভিড় জমেছিল। চড়া দামে টিকিট কেটেও বহু দর্শক মাঠ থেকে মেসিকে স্পষ্টভাবে দেখতে না পারায় ক্ষোভ ছড়ায়। অভিযোগ, মেসি, লুইস সুয়ারেজ় ও রদ্রিগো ডি’পল মাঠে নামার পর তাঁদের ঘিরে মন্ত্রী ও আমলাদের একটি বড় অংশ জটলা পাকান, ফলে গ্যালারির দর্শকেরা মাঠের দৃশ্য থেকে বঞ্চিত হন। তার জেরেই মেসিরা স্টেডিয়াম ছাড়ার পর ক্ষুব্ধ জনতা ভাঙচুরে নামে।
গ্যালারির হোর্ডিং ছেঁড়া, বোতল ছোড়া, চেয়ার ভাঙচুর এবং ফেন্সিং টপকে মাঠে ঢুকে পড়ার মতো ঘটনা ঘটে। পরে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এর আগে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, সকলকেই সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে শনাক্ত করা হয়। পাশাপাশি, অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
রাজ্য সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সেই কমিটির সুপারিশ মেনেই সিট তদন্ত শুরু করেছে। যুবভারতী কাণ্ডে দায় ও গাফিলতি কার, তা খতিয়ে দেখতেই এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য।
