
বাংলাদেশ ইস্যুতে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। ঠিক সেই সময়েই তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের নতুন দল গঠন এবং তাঁর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিষয়টিকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও হুমায়ুন কবীর দু’জনকেই একযোগে কটাক্ষ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
হুমায়ুন কবীর নতুন দল গড়ে অন্তত ৯০টি আসনে জয়ের দাবি করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি জানিয়েছেন বিজেপি ও তৃণমূল দুই দলের বিরুদ্ধেই প্রার্থী দেবেন। এই ঘোষণাকে সম্পূর্ণ “সাজানো নাটক” বলে দাবি শুভেন্দুর। তাঁর অভিযোগ, এটি আদতে তৃণমূলেরই ছক। সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও হুমায়ুন কবীর কার্যত ‘এ টিম’ ও ‘বি টিম’। দীপু দাস হত্যাকাণ্ড নিয়ে দু’জনের নীরবতাকেও একই সূত্রে বেঁধেছেন তিনি।
শুভেন্দুর বিস্ফোরক দাবি, মুসলিম সমাজের একাংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজে ক্ষুব্ধ। সেই অসন্তোষ বিজেপির দিকে যাতে না যায়, তার জন্যই হুমায়ুনকে সামনে রাখা হয়েছে। নতুন দল গড়ে মুসলিম ভোট ভাগ করাই এই রাজনৈতিক কৌশলের মূল উদ্দেশ্য বলে অভিযোগ তাঁর।
হুমায়ুন কবীর অবশ্য পাল্টা হুঙ্কার দিয়েছেন। জানিয়েছেন, ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম দু’জায়গাতেই শক্ত প্রার্থী দেবেন এবং কোনও জমি ছাড়বেন না। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল ও বিজেপি দু’দলকেই হারাতেই তিনি লড়াইয়ে নেমেছেন এবং ২০২৬ বিধানসভা ভোটে সেই লড়াই দেখবে বাংলা।
ভবানীপুর প্রসঙ্গে শুভেন্দুর দাবি, সেখানে হুমায়ুন প্রার্থী হলে বিজেপির কোনও সমস্যা নেই। বরং তৃণমূলই সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বে। নন্দীগ্রামেও হুমায়ুনের ‘মুসলিম কার্ড’ রাজনীতিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি। অন্যদিকে, তৃণমূলের বক্তব্য উন্নয়নের রাজনীতিতেই ভরসা রাখে তারা, বিরোধীদের অভিযোগে নয়, ভোটেই তার জবাব দেবে বাংলা।
