
বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সাম্প্রতিক একটি ঘোষণা ওপার বাংলার রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নিহত ছাত্রনেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার আগামী ১০ দিনের মধ্যে শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। কিন্তু এই তৎপরতার আড়ালে কি আসন্ন নির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণ লুকিয়ে আছে? প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
রবিবার সচিবালয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী স্পষ্ট জানান, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যার চার্জশিট আগামী ১০ দিনের মধ্যে জমা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা হাদি হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।” তদন্তে বিজিবি, র্যাব এবং পুলিশ সম্মিলিতভাবে কাজ করছে এবং এই সরকারের মেয়াদেই বিচার সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় ওসমান হাদির। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বাংলাদেশ। মহম্মদ ইউনুস হাদিকে ‘শহিদ’ ঘোষণা করে তাঁর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
ওসমান হাদির মৃত্যুর পর বাংলাদেশে ফের সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, হাদি হত্যার ‘বদলা’ নিতেই দীপক চন্দ্র দাস (দীপু) এবং অমৃত মণ্ডলের মতো হিন্দু যুবকদের নৃশংসভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকও এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, হাদি হত্যা নিয়ে ইউনুস সরকার যতটা তৎপর, হিন্দু যুবকদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে ততটাই নীরব। এই বৈষম্যমূলক আচরণ অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওসমান হাদি ছিলেন কট্টর ভারত-বিরোধী এবং বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর অত্যন্ত কাছের। তাঁর মৃত্যুর পর যেভাবে সরকার তাঁকে ‘আবেগ’ হিসেবে তুলে ধরছে, তাতে স্পষ্ট যে হাদিকে একটি রাজনৈতিক মডেলে পরিণত করা হচ্ছে। হাদির ভাই ওমর হাদি যদিও সরকারের একাংশকেই এই খুনের জন্য দায়ী করেছেন, কিন্তু প্রশাসন এখন পাল্টা এই মৃত্যুকে পুঁজি করে জনসমর্থন পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিচারের দাবি সবসময়ই ন্যায্য, কিন্তু যখন বিচারব্যবস্থা বেছে বেছে কেবল নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর জন্য সক্রিয় হয়, তখন তা দুঃখজনক হয়ে দাঁড়ায়। ওসমান হাদির বিচার যেমন কাম্য, তেমনই দীপু দাস বা অমৃত মণ্ডলের রক্তের হিসাবও সরকারকেই দিতে হবে। কেবল একজনকে ‘শহিদ’ তকমা দিয়ে এবং অন্যদের মৃত্যুতে নীরব থেকে কি আদৌ ন্যায়বিচার সম্ভব? নাকি এই বিচার প্রক্রিয়া কেবল নির্বাচনের আগে একটি গিমিক হয়েই থেকে যাবে, তা সময়ই বলবে।।
