
বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে উত্তাপ আরও বাড়াল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তিন দিনের সফর। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক ও দলীয় কর্মসূচিতে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে একের পর এক তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ, আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক পতন এই চার ইস্যুকেই সামনে রেখে রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে সরব হন শাহ।
সাংবাদিক বৈঠকে অমিত শাহ দাবি করেন, তৃণমূলের ১৪ বছরের শাসনে দুর্নীতিই বাংলার পরিচয়ে পরিণত হয়েছে। চিটফান্ড, নিয়োগ, রেশন, আবাস ও একশো দিনের কাজের দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গরিব রাজ্যে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হলেও কোনও দায় স্বীকার করা হয়নি। পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক-সহ একাধিক নেতার গ্রেফতারের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রীকে জবাব দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি।
অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে শাহের দাবি, একসময় দেশের জিডিপিতে বাংলার অবদান যেখানে শীর্ষে ছিল, সেখানে আজ রাজ্য নীচের সারিতে নেমে গিয়েছে। শিল্পপতিরা তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজের কারণে মুখ ফিরিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে বলেন, “এখন বঙ্গবাসীর বুকে মলম লাগানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু ক্ষত এত গভীর যে মলমে কাজ হবে না।”
অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও রাজ্য সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বাংলার সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ এখন শুধু রাজ্যের নয়, দেশের নিরাপত্তার প্রশ্ন। বর্ডার ফেন্সিংয়ের জন্য জমি না দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিজেপিই একমাত্র দল যারা সীমান্ত সিল করে দিতে পারে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সরকার গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করে শাহ বলেন, ২০১৪ থেকে বিজেপির ভোট ও আসন বৃদ্ধির পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ। অন্যদিকে, একই দিনে বাঁকুড়ায় জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে শাহের সফর ঘিরে রাজ্যে শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠল।
