
বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, রাজনৈতিক উত্তাপ ততই চরমে উঠছে। আই-প্যাকের অফিস ও সংস্থার কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। শুক্রবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
ঘটনার পর আই-প্যাকের তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হয়, বৃহস্পতিবারের ঘটনাপ্রবাহ অনভিপ্রেত এবং উদ্বেগজনক। তবে সংস্থা আইন মেনে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আইনের প্রতি তাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।
এদিকে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাস্তায় নামেন তৃণমূল সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলে তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা-সাংসদ দেব, অভিনেতা-বিধায়ক সোহম এবং কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। মিছিলে বিপুল সংখ্যক তৃণমূল কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
শুধু কলকাতাই নয়, দিল্লিতেও প্রতিবাদের ছবি ধরা পড়ে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দফতরের বাইরে ধর্নায় বসেন তৃণমূলের আট সাংসদ। পুলিশ তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ায় বিষয়টি আরও রাজনৈতিক রং নেয়। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া বার্তা দেন এবং একে গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ বলে আখ্যা দেন।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে শুনানির কথা থাকলেও হট্টগোলের কারণে তা মুলতুবি থাকে। আগামী ১৪ জানুয়ারি ফের শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার আইনি পথও বিবেচনা করছে ইডি।
সব মিলিয়ে আই-প্যাক–ইডি সংঘাত এখন আর শুধু একটি তদন্তের বিষয় নয়, তা পরিণত হয়েছে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে। বাংলার রাজনীতিতে এর প্রভাব কতটা পড়ে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
