
ED Vs মমতা সংঘাত চরমে। আইপ্যাক কাণ্ড নিয়ে জল গড়াল সুপ্রিম কোর্টে। আইপ্যাক কান্ডে সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন এন ফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের। জরুরী ফাইল, হার্ডডিক্স ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। আইপ্যাক মামলায় সিবিআই তদন্তের দাবি ইডির। অন্যদিকে এদিনই শীর্ষ আদালতে ক্যাভিয়েট দাখিল করল রাজ্য সরকার। শুক্রবার হাইকোর্টে ইডি-তৃণমূল মামলার শুনানি স্থগিত হয়ে যায়। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ১৪ই জানুয়ারি। ইডি সূত্রে খবর, এই মামলার দ্রুত শুনানির জন্য তারা সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হবেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ রয়েছে তা তুলে ধরবেন তারা। তাই ইডির আবেদনের আগেই রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করল। কারণ, ইডি যদি কোন মামলা করে তবে রাজ্য সরকারের বক্তব্য যেন শোনা হয় তাই রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ ।
উল্লেখ্য গত দুদিন ধরেই আই প্যাকের অফিস ও কর্ণধারের বাড়িতে ইডি তল্লাশি ঘিরে তুঙ্গে রাজ্য রাজনীতি। এনিয়ে এবার সাত নম্বর লাউডন স্ট্রীট-এর ফেসিলিটি ম্যানেজারকে নোটিশ পাঠালো পুলিশ। ঘটনার দিন সকালে কারা কারা ছিল? তাদের নামের তালিকা জানতে চাওয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। পরিচারিকা সহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বয়ান রেকর্ড করেছে পুলিশ। এর পাশাপাশি বহুতলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বাজেয়াপ্ত করে পাঠানো হয়েছে ফরেন্সিকে। বৃহস্পতিবার যেই টিম তল্লাশিতে এসেছিল সেই টিমে কারা কারা ছিল? কতজন সিআরপিএফ জওয়ানকে নিয়ে ইডি তল্লাশিতে এসেছিল? কোনোও ফরেন্সিক এক্সপার্ট ছিল কিনা? ইডির কাছে তা জানতে চাইবে পুলিশ। সেই দিন ফ্ল্যাটের ভিতরে ঠিক কি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তা জানতে আইপ্যাক এর কর্ণধার এবং তার পরিবারের সদস্যদের বয়ান রেকর্ড করবে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, সকাল ৬টা থেকে তল্লাশি শুরু হয় তারপর ১১.৩০ টায় থানায় ইমেইল করা হয়। যে আধিকারিক থানাকে ইমেইল পাঠিয়েছিলেন তাকেও নোটিশ পাঠানো হবে। যখন সিআরপিএফ আধিকারিকরা পুলিশকে বাধা ও ধাক্কা দেয় তখন কর্তব্যরত কয়েকজন পুলিশ কর্মীর ইউনিফর্মে বডিক্যাম ছিল, সেইসব বডিক্যাম পরীক্ষার কাজ শুরু করলো পুলিশ। এর পাশাপাশি সল্টলেক সেক্টর ফাইভের গোদরেজ ওয়াটার সাইড বিল্ডিংয়ের এক্সিট ও এন্ট্রি পয়েন্টের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ।
অপরদিকে,মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আইনজীবী মারফত আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এক্স হ্যান্ডেলে একটি চিঠির ছবি পোস্ট করে শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন,” ইডির তদন্ত থেকে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি ঘোরানোর জন্য মরিয়া চেষ্টা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । আমার বিরুদ্ধে ওঠা সম্পূর্ণ অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মানহানিকর। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর দাবির সপক্ষে প্রমাণ দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি যদি প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হন তবে, মানহানির জন্য উপযুক্ত দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করব । এমনই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার হাজরা মোড়ের জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, কয়লার টাকা কে খায়? অমিত শাহ খায়,হোম মিনিস্টার। গদ্দারের মাধ্যমে টাকা দেয়। জগন্নাথের মাধ্যমে টাকা যায় শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। আর শুভেন্দু অধিকারীর মাধ্যমে টাকা যায় অমিত শাহ এর কাছে । এমনই মন্তব্য করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর এহেন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
