
কেউ বলেন আন্ডাররেটেড, কেউ বলেন সবচেয়ে ভরসাযোগ্য। কিন্তু বিপদের সময়ে যিনি বারবার সামনে এসে দাঁড়ান, তিনি যে কেএল রাহুল তা আবারও প্রমাণিত হল নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে রাজকোটে। চাপের মুহূর্তে দলের হাল ধরলেন, ব্যাটে দেখালেন দায়িত্ব আর আত্মবিশ্বাসের নিখুঁত মেলবন্ধন।
ভারত তখন কিছুটা অস্বস্তিতে। স্কোরবোর্ডে ১১৫/৩। ক্যাপ্টেন শুভমন গিল ৫৬ করে ফিরে গিয়েছেন। মিডল অর্ডারে চাপ বাড়ছে। ঠিক সেই সময়েই ক্রিজে নামেন রাহুল। সামনে কঠিন পরীক্ষা, উল্টো দিকে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের আক্রমণ। কিন্তু এসব যেন তাঁর কাছে নতুন কিছু নয়। ধীরে শুরু করে দ্রুতই ম্যাচের রাশ নিজের হাতে তুলে নেন তিনি।
৯২ বলের অনবদ্য ইনিংসে অপরাজিত ১১২ রান করেন কেএল রাহুল। ইনিংস জুড়ে ছিল ১১টি চার ও একটি ছয়। শুধু টিকে থাকা নয়, প্রয়োজনের সময়ে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেই প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন তিনি। জাডেজা বা নীতীশ রেড্ডির মতো সঙ্গী থাকলেও, রান তোলার মূল দায়িত্বটা নিজের কাঁধেই তুলে নেন রাহুল।
ফরম্যাট বদলালেও রাহুলের মানসিকতা বদলায় না। টেস্টে ওপেনার, ওয়ান ডে-তে মিডল অর্ডার যে ভূমিকাই দেওয়া হোক, সাফল্য আসে তাঁর ব্যাট থেকে। পরিসংখ্যানও সেটাই বলছে। ২০১৭ সালের পর থেকে ওয়ান ডে-তে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করে ৩৩ ইনিংসে ১৪৭৭ রান, গড় ৬৪-এর বেশি। স্ট্রাইক রেট প্রায় ১০০ যা আধুনিক ক্রিকেটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি বা অন্য তারকারা ব্যর্থ হলে, বারবারই দলের ত্রাতা হয়ে উঠেছেন কেএল রাহুল। এই শতরানও তার ব্যতিক্রম নয়। তাই আলাদা করে প্রশংসা কুড়োনোর দরকার পড়ে না। মাঠের পারফরম্যান্সই বলে দেয়, ভারতীয় ক্রিকেটে বিপদের সবচেয়ে বড় বন্ধু এখনও কেএল রাহুল।
