
কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে কোমর বেঁধে মাঠে নামল ঘাসফুল শিবির। তৃণমূল সরকারের গত ১৫ বছরের কাজের খতিয়ান আমজনতার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে শুরু হয়েছে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ কর্মসূচি। আর এই প্রচারের সেনাপতি হিসেবে আজ সরাসরি ময়দানে নামলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার তাঁর গন্তব্য ছিল টলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের বাড়ি এবং নন্দনে বিধায়ক-পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর অনুষ্ঠান।
আজকের কর্মসূচির শুরুতেই ভবানীপুরে রঞ্জিত মল্লিকের বাড়িতে পৌঁছে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বর্ষীয়ান অভিনেতার হাতে সরকারের গত ১৫ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান বা ‘রিপোর্ট কার্ড’ তুলে দেন তিনি। সূত্রের খবর, এই বিশেষ সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক এবং প্রযোজক নিসপাল সিং রানেও। সংস্কৃতি জগতের আইকনদের মাধ্যমে উন্নয়নের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া তৃণমূলের এক সুচিন্তিত কৌশল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রঞ্জিত মল্লিকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে অভিষেকের গন্তব্য নন্দন, যেখানে রাজ চক্রবর্তীর নতুন কাজের বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে তিনি শিল্পী ও কলাকুশলীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, স্বাস্থ্য (স্বাস্থ্যসাথী), শিক্ষা (কন্যাশ্রী, সবুজ সাথী), সামাজিক সুরক্ষা (লক্ষ্মীর ভাণ্ডার) এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের যাবতীয় তথ্য এই পাঁচালিতে তুলে ধরা হয়েছে। লক্ষ্য একটাই—বিরোধীদের করা দুর্নীতির অভিযোগের পাল্টা হিসেবে উন্নয়নের তথ্যকে ঢাল করা। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দলের মন্ত্রী, সাংসদ এবং মেয়রেরা বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে এই খতিয়ান তুলে দিচ্ছেন। ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে ব্লক স্তর পর্যন্ত এই প্রচার ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক নিজেই। তবে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’র এই যাত্রা সব জায়গায় মসৃণ হচ্ছে না। সম্প্রতি নন্দীগ্রামে প্রচারের ট্যাবলো ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক পারদ চড়েছে। একদিকে যখন ইডি-সিবিআইয়ের অতি-সক্রিয়তা এবং দুর্নীতির অভিযোগে শাসকদল বিদ্ধ, তখন উন্নয়নের এই প্রচারকে বিরোধীরা ‘ভোটের গিমিক’ বলে কটাক্ষ করছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুধু খতিয়ান তুলে ধরলেই কি ভোটের অঙ্ক মিলবে? চাকরিপ্রার্থী যুবকদের ক্ষোভ এবং মূল্যবৃদ্ধির মতো জ্বলন্ত সমস্যাগুলোর সমাধান সাধারণ মানুষ কতটা খুঁজে পাবেন এই পাঁচালিতে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। তবে অভিষেকের সরাসরি ময়দানে নামা এবং বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক জগতের মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্তরে যোগাযোগ স্থাপন নিশ্চিতভাবেই দলের কর্মীদের মনোবল বাড়াবে। সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর আগে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ তৃণমূলের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক হাতিয়ার। মাঠের বাস্তবতা এবং মানুষের প্রত্যাশার ভারসাম্য রক্ষা করে এই প্রচার কতটা জনমত তৈরি করতে পারে, তা সময়ই বলবে।।
