
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে ফের আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়াল। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত একটি বার্তাকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। ওই সম্প্রচারে সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে হুমকির সুর শোনা গিয়েছে বলে দাবি একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে দেখানো হয় ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে ট্রাম্পের নির্বাচনী সভায় হামলার একটি ছবি। সেই ঘটনার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান ট্রাম্প। ওই ছবির সঙ্গেই সম্প্রচারিত হয় একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু ভয়াবহ বার্তা “এবার লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে না।” বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে এটাই এখনও পর্যন্ত তেহরানের সবচেয়ে প্রকাশ্য ও সরাসরি হুমকি।
এই বার্তা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে বলে জল্পনা চলছে। ইরানের অভিযোগ, দেশের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভকে অজুহাত করে আমেরিকা হস্তক্ষেপের পথ খুঁজছে। যদিও এই সম্প্রচার নিয়ে ইরানের সরকারি স্তরে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এরই মধ্যে জানা গিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি ঘাঁটি থেকে সেনা সরানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে আমেরিকা। পাল্টা হিসেবে ইরান মনে করিয়ে দিয়েছে ২০২৫ সালের জুনে কাতারের আল উদেইদ এয়ারবেসে চালানো তাদের প্রতিশোধমূলক হামলার কথা।
অন্যদিকে, এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানে বিক্ষোভ দমনে আরও কঠোরতা দেখানো হলে আমেরিকা ‘খুব শক্ত’ জবাব দেবে। ইরান অবশ্য এই মন্তব্যকে সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত বলেই উড়িয়ে দিয়েছে।
দেশের ভিতরে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। মুদ্রার পতন ও অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পকে ঘিরে এই হুমকির বার্তা আমেরিকা-ইরান সংঘাতে যে নতুন ও বিপজ্জনক অধ্যায় খুলে দিল, তা বলাই যায়।
