
পশ্চিমবঙ্গের ডিজিপি রাজীব কুমারকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার দাবিতে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আই-প্যাক তল্লাশি সংক্রান্ত মামলার শুনানির ঠিক আগেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা নতুন করে আবেদন জমা দিয়েছে। সেই আবেদনে শুধু রাজীব কুমার নন, তল্লাশির সময় উপস্থিত থাকা রাজ্য পুলিশের আরও কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিকের বিরুদ্ধেও সাসপেনশনের আর্জি জানানো হয়েছে।
ইডির অভিযোগ, তদন্ত চলাকালীন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক গুরুতর অসদাচরণ করেছেন এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেননি। ইডির দাবি, এই আচরণ তদন্তের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার মতে, রাজীব কুমার তদন্তে বাধা দিয়েছেন এবং এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে এমন আচরণের নজিরও রয়েছে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনার সময় তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনার হিসেবে রাজীব কুমারের ভূমিকা একজন আইপিএস অফিসারের নিরপেক্ষতার পরিপন্থী ছিল। ইডির দাবি, সেই ঘটনার ধারাবাহিকতাই বর্তমান মামলাতেও দেখা যাচ্ছে।
ইডি সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানিয়েছে, যাতে কেন্দ্রীয় সরকারের পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং বিভাগ (DoPT) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রাজীব কুমার-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আই-প্যাক মামলায় ইডির তরফে একটি এবং তিন ইডি আধিকারিকের তরফে পৃথক আরেকটি পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। এই দুই মামলাতেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজীব কুমার-সহ একাধিক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিককে পক্ষভুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে, বিজেপি নেতা জগন্নাথ সরকার বলেন, “প্রশাসন ও রাজনীতিকে আলাদা রাখা প্রয়োজন। কিন্তু তৃণমূল সরকারের আমলে সেই সীমারেখা মুছে গেছে। এবার তার ফল ভুগতে হবে।” মামলার শুনানিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
