
চন্দ্রকোনায় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার ঘটনায় পুনরায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল বিজেপি। অভিযোগ, একই ঘটনায় দুই পক্ষ, বিজেপি ও তৃণমূল, বিরুদ্ধে ভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ পক্ষপাতিত্ব করেছে।
ঘটনা গত শনিবার ঘটে। পুরুলিয়া থেকে ফেরার পথে চন্দ্রকোনা রোডে শুভেন্দুর কনভয় বিক্ষোভের মুখে পড়েছিল। অভিযোগ, রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা বিজেপি কর্মীদের উপর তৃণমূল সমর্থকরা হামলা চালায়। এই ঘটনায় দু’পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করে। তবে বিজেপি জানায়, তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে, যেখানে তৃণমূল সমর্থকদের বিরুদ্ধে কেবল জামিন-যোগ্য ধারা।
বিজেপির পক্ষ থেকে এফআইআর খারিজ করার জন্য মামলা দায়ের করা হয়। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ মামলার দায়ের অনুমোদন দিয়েছেন। বিজেপি প্রশ্ন তুলেছে, “একই ঘটনায় এক যাত্রায় পৃথক ফল কেন?” তাদের অভিযোগ, রাজ্যের পুলিশ শাসক দলের দলে পরিণত হয়েছে, হামলা বিজেপি কর্মীদের উপর হলেও শাস্তি ও গ্রেফতার কার্যত পক্ষপাতদুষ্ট।
হামলার প্রতিবাদে শুভেন্দু অধিকারী স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে গভীর রাত পর্যন্ত অবস্থান বিক্ষোভও করেন। পাশাপাশি কনভয় হামলার ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবিতেও মামলা দায়ের হয়েছে। এবার পুলিশ নিরপেক্ষতা নিয়ে আরও একটি মামলা উচ্চ আদালতে পৌঁছেছে।
প্রসঙ্গত, আদালতের নজর এখন চন্দ্রকোনা কাণ্ডের পুলিশের ভূমিকার দিকে। পুলিশের নিরপেক্ষতা ও বিচারিক পর্যবেক্ষণের ফলাফলের দিকে সকলের চোখ। এই মামলা রাজ্যের রাজনীতি ও পুলিশি প্রশাসনের ওপর নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করতে পারে।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও দুই প্রধান দলের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্ব আরও একবার প্রকাশ পেয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে পুলিশি আচরণ ও রাজনৈতিক সংঘাতের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
