
পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত দুই নার্সের খোঁজ মেলার পর রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে রাজ্যে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হয়েছে এবং রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর নিপা মোকাবিলায় বিস্তারিত গাইডলাইন প্রকাশ করেছে।
গাইডলাইনে বলা হয়েছে, নিপা আক্রান্ত বা উপসর্গযুক্ত রোগীর রক্ত, লালা, দেহরস বা হাঁচি–কাশির ড্রপলেটের সংস্পর্শে আসলে ২১ দিনের হোম কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক। রোগীর সঙ্গে সীমাবদ্ধ জায়গায় সময় কাটানো ব্যক্তিদের ‘হাই রিস্ক কন্ট্যাক্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের দৈনিক দু’বার শারীরিক পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক। উপসর্গ দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তি করে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হবে।
নিপায় আক্রান্তদের জামা-কাপড় বা সরাসরি সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরাও ২১ দিনের পর্যবেক্ষণে থাকবেন। স্বাস্থ্যকর্মীরা PPE কিট ও মাস্ক ব্যবহার করে রোগীর দেখাশোনা করতে পারবেন, তাদের আলাদা কোয়ারেন্টিনের প্রয়োজন নেই। সংক্রমণ ঠেকাতে স্বাস্থ্যকর্মীদের দুই সপ্তাহ বিশেষ অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ খাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিপা সন্দেহ হলে দ্রুত RTPCR পরীক্ষার নমুনা পাঠাতে হবে। একদিনের মধ্যে অন্তত দু’বার রিপোর্ট নেগেটিভ না এলে ওষুধ বন্ধ করা যাবে না। উপসর্গ দেখা দিলে হাসপাতালেই ভর্তি বাধ্যতামূলক। আক্রান্তদের পাঁচ দিন অন্তর লালা, রক্ত ও ইউরিন পরীক্ষা করা হবে এবং একদিনের মধ্যে দু’বার নেগেটিভ রিপোর্ট না এলে রোগীকে ছাড়া হবে না। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরও ৯০ দিন পর্যবেক্ষণ চালানো হবে।
বর্তমানে নিপায় আক্রান্ত দুই নার্সের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছে, অন্যজনকে ভেন্টিলেশন থেকে সরানো হয়েছে। রাজ্যে নতুন করে কোনো নিপা আক্রান্ত রোগীর খবর নেই। রাজ্য প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগ এই কড়া গাইডলাইন কার্যকরভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে সংক্রমণ রুখতে সচেষ্ট।
