
শিলিগুড়িতে প্রস্তাবিত মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাসকে কেন্দ্র করে একযোগে রাজনৈতিক ও মানবিক বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার মঞ্চ থেকে তিনি বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর ভিনরাজ্যে চলা নির্যাতন ও হামলার ঘটনাকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার কারণে পরিযায়ী শ্রমিকরা অসম, বিহার, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও দিল্লির মতো রাজ্যগুলোতে মারধর এবং খুনের শিকার হচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্ম ও মানবিকতার প্রসঙ্গেও স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি বলেন, “পিটনা কোই ধর্ম নহি হোতা, জিন্দেগি দেনা হোতা হ্যায়।” অর্থাৎ জীবনের প্রকৃত ধর্ম হল মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ভালো কাজ করা। বৈচিত্র্যের মধ্যেও ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “হাতের পাঁচটা আঙুল এক নয়, কিন্তু সব আঙুল একসঙ্গে হলেই মুঠো হয়। একটা ধর্ম বা রঙ থাকলেই সমাজ চলে না।”
শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দিরের জন্য প্রায় ৫৪ বিঘা জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। মন্দিরের পাশাপাশি এখানে একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রও গড়ে তোলা হবে। এটি উত্তরবঙ্গে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো গড়ার একটি বড় উদ্যোগ।
এই সময় তিনি এসআইআর ইস্যুতে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের উপরও আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর-এর নামে বাংলায় অশান্তি তৈরি করা হচ্ছে এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলা হচ্ছে। শিলান্যাস অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মানবিকতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার সংক্রান্ত একসংগে বার্তা দিয়েছেন যা রাজ্যজুড়ে গুরুত্ব সহকারে ছড়িয়ে পড়েছে।
মমতার এই বক্তব্য রাজনৈতিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে উত্তরবঙ্গ ও সমগ্র বাংলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
