একটা একটা করে পাঁচটা মাস পেরিয়ে গেছে। শনিবার শিয়ালদা কোর্টে আর জি কর ধর্ষণ-খুন মামলার রায় ঘোষণা হবে। তবে কি সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে? সঞ্জয় রায়ের শাস্তি কি ন্যায়ের ক্ষতে মলম লাগাতে পারবে?
২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের নিথর দেহ উদ্ধার হয়েছিল। প্রথমে সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। পরে তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে যায়। হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ের ১৬২ দিন পরে আজ শিয়ালদা আদালতে রায় ঘোষণা হবে।
ঘটনার পরপরই উত্তাল হয় বাংলা। নাগরিক সমাজের ‘রাত দখল’ আন্দোলন, জুনিয়র চিকিৎসকদের লালবাজার অভিযান রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক মঞ্চে দাগ কেটেছিল। ১৪ অগাস্ট ‘মেয়েদের রাত দখল’-এর দিন আর জি কর হাসপাতালে ভাঙচুর, অনশন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক—সবকিছুর সাক্ষী থেকেছে শহর।
২১ অক্টোবর নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরে অনশন প্রত্যাহার করে নিলেও আন্দোলনের আগুন নিভেনি। সিবিআই চার্জশিটে শুধুমাত্র সঞ্জয় রায়কে অভিযুক্ত করায় আবারও উঠছে প্রশ্ন—তদন্তে কি কাউকে আড়াল করা হচ্ছে? সঞ্জয় রায়ের একার পক্ষে কি এমন ঘটনা ঘটানো সম্ভব?
১১ নভেম্বর মামলার চার্জ গঠনের পরে শনিবার বিচারপতি অনির্বাণ দাস রায় ঘোষণা করবেন। কিন্তু নাগরিক সমাজ এবং চিকিৎসক মহল স্পষ্ট করেছে, শুধু রায়ই শেষ কথা নয়। তাদের দাবিতে ন্যায়বিচার আজও প্রশ্নের মুখে।
