
সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তার নিরিখে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। বিশ্বের প্রথম রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ইনস্টাগ্রামে ১০ কোটি ফলোয়ারের সংখ্যা ছুঁয়ে ফেলেছেন তিনি। এই পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তাঁর ডিজিটাল জনপ্রিয়তা।
২০১৪ সালে ইনস্টাগ্রামে যোগ দেন Narendra Modi। গত এক দশকে ধীরে ধীরে তাঁর অ্যাকাউন্ট এমন এক শক্তিশালী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে, যেখানে নিয়মিতভাবে তাঁর বক্তব্য, সরকারি কর্মসূচি, বিদেশ সফর এবং বিভিন্ন সামাজিক বার্তা শেয়ার করা হয়। ফলে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ খুব সহজেই তাঁর কার্যকলাপ সম্পর্কে জানতে পারেন।
ইনস্টাগ্রামে জনপ্রিয়তার দিক থেকে অন্যান্য বিশ্বনেতাদের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ৪৩.২ মিলিয়ন, যা মোদীর অর্ধেকেরও কম। এর পরে রয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট Prabowo Subianto, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট Luiz Inácio Lula da Silva, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট Recep Tayyip Erdoğan এবং আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট Javier Milei। পরিসংখ্যান বলছে, এই পাঁচজন নেতার ফলোয়ার সংখ্যা একত্রিত করলেও মোদীর একার ফলোয়ারের কাছাকাছি পৌঁছয় না।
শুধু আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেই নয়, ভারতীয় রাজনীতিতেও ইনস্টাগ্রামে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন Narendra Modi। দেশের রাজনীতিবিদদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী Yogi Adityanath, যার ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ১৬.১ মিলিয়ন। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা Rahul Gandhi-র ফলোয়ার রয়েছে প্রায় ১২.৬ মিলিয়ন। ফলে এই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে মোদীর জনপ্রিয়তার সঙ্গে আপাতত কারও তুলনা চলে না বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।
এদিকে বর্তমানে ইজরায়েল সফরে রয়েছেন Narendra Modi। সফরের প্রথম দিনেই তিনি ইজরায়েলের সংসদ কেনেসেটে ভাষণ দেন এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেন। পাশাপাশি গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এই সফরের সময় তাঁকে কেনেসেটের সর্বোচ্চ সম্মান ‘স্পিকার অফ দ্য কেনেসেট মেডেল’ দেওয়া হয়, যা আগে কোনও বিদেশি নেতাকে দেওয়া হয়নি। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu তাঁকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে ভারতের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক রাজনীতি থেকে শুরু করে ডিজিটাল দুনিয়া দুই ক্ষেত্রেই নিজের প্রভাব ক্রমশ আরও জোরালো করে তুলছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
