
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। রবিবার করাচিতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৯-১০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০ জনেরও বেশি মানুষ। তবে হতাহতের এই সংখ্যা এখনও নিরপেক্ষ কোনও সূত্র বা সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
রবিবার করাচির বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বিশাল প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়। সুলতানাবাদ থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলটি মাই কোলাচি অভিমুখে যাওয়ার সময় বিক্ষোভকারীরা আমেরিকা ও ইজরায়েল বিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এমটি খান রোডসহ প্রধান সড়কগুলো সিল করে দেয়। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে কনস্যুলেটের নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কনস্যুলেটের ভেতরে থাকা মার্কিন মেরিন সেনারা গুলি চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুধুমাত্র করাচি নয়, খামেনেই হত্যার প্রতিবাদে পুরো পাকিস্তান জুড়েই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। উত্তরের স্কার্দু এলাকায় বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রসঙ্ঘের (UN) একটি কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয় সরকারি মুখপাত্র শাব্বির মীর রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। লাহোরেও মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে কয়েকশো মানুষ জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান। পুলিশি বাধায় সেখানে বড় কোনও সংঘর্ষ না ঘটলেও উত্তেজনা বজায় রয়েছে।
ইরানে মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার জেরে খামেনেইর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন অংশে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পাকিস্তানে জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে এই ক্ষোভের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা গিয়েছে। এদিকে ভারতের জম্মু কাশ্মীরেও বিক্ষোভের দৃশ্য দেখা গিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে করাচির কূটনৈতিক এলাকায় অতিরিক্ত আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
