
আগেই নিহত হয়েছেন ইরানের প্রধান আয়াতোল্লা আলী থামেনিসহ তাঁর মেয়ে ও জামাই। এবার তার পুরো পরিবার ধ্বংস! ইরানের সংবাদমাধ্যম সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, এবার প্রাণ হারিয়েছেন নিহত খামেনির স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তে বাঘেরজাদে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গিয়েছেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ওই একই হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তাঁর পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন বলে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বেই জানানো হয়েছে। খামেনির মৃত্যুর পর দেশটিতে ইতিমধ্যেই ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
মানসুরেহ খোজাস্তে ১৯৬৪ সালে আলী খামেনির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মাশহাদের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইসমাইল খোজাস্তে বাঘেরজাদের কন্যা মানসুরেহ সর্বদা প্রচারের আড়ালে থাকতেই পছন্দ করতেন। দীর্ঘ কয়েক দশকের দাম্পত্য জীবনে তাঁকে খুব কমই রাষ্ট্রীয় কোনও অনুষ্ঠানে জনসমক্ষে দেখা গেছে। তাঁর ভাই হাসান এক সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা ‘আইআরআইবি’ (IRIB)-এর উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনির কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে অন্তত ৩০টি মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এই ভয়াবহ হামলায় খামেনির কন্যা, জামাতা এবং পুত্রবধূসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়াও ওই স্থানে উপস্থিত থাকা প্রায় ৪০ জন উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আয়াতোল্লা আলী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। যদিও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মৃত্যুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনও পৃথকভাবে কোনো নিশ্চিত বার্তা দেওয়া হয়নি, তবে তেহরান এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
