
বিহারের রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। জোর জল্পনা দীর্ঘদিনের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার রাজ্যসভায় যেতে পারেন। আর তাতেই খুলে যেতে পারে বিহারে প্রথমবারের মতো বিজেপির নিজস্ব মুখ্যমন্ত্রী বসানোর রাস্তা। রাজনৈতিক মহলে এই খবর ঘিরে এখন তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, বিজেপি আর অপেক্ষা করতে রাজি নয়। বহু বছর ধরে জোট রাজনীতির সমীকরণে নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকলেও এখন পরিস্থিতি বদলেছে। সংখ্যার হিসেবে বিজেপি এখন বিহার বিধানসভায় জেডিইউ-এর থেকে এগিয়ে। বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ৮৯, অন্যদিকে নীতীশ কুমারের দল জেডিইউ-এর বিধায়ক সংখ্যা ৮৫। এই অঙ্কই এখন বিজেপিকে নতুন দাবি তুলতে সাহস জোগাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন জোটের ভারসাম্য বজায় রাখতে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু এখন দল মনে করছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে নেতৃত্বেও তাদেরই থাকা উচিত। বিজেপির এক কেন্দ্রীয় নেতার কথায়, “সংখ্যার বিচারে বিজেপিই বড় দল। তাই নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি অস্বাভাবিক নয়।”
আরও একটি বড় কারণ হিসেবে সামনে এসেছে নীতীশ কুমারের বয়স ও স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা। বর্তমানে তাঁর বয়স ৭৫ বছর। গত কয়েক বছরে তাঁকে আগের মতো সক্রিয় দেখা যায়নি বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। অনেক সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথাও বলেননি তিনি। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির একাংশ মনে করছে, নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব সামনে আনার সময় এসেছে।
তবে এই পরিবর্তনকে সরাসরি ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হিসেবে দেখাতে চাইছে না বিজেপি। রাজনৈতিক মহলে শোনা যাচ্ছে, নীতীশ কুমারকে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে ‘সম্মানজনক বিদায়’ দেওয়ার পরিকল্পনাই করা হচ্ছে। এতে তাঁর রাজনৈতিক মর্যাদা অটুট থাকবে এবং তিনি জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে পারবেন।
এর মধ্যেই নতুন আরেকটি জল্পনাও মাথা তুলেছে। নীতীশ কুমারের ছেলে নিশান্ত কুমার ভবিষ্যতে রাজনীতিতে সক্রিয় হতে পারেন বলে জেডিইউ-এর কিছু নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবুও বিষয়টি বিহারের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে, এনডিএ জোটের ভেতরেও কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষের খবর সামনে এসেছে। বিশেষ করে মদ নিষিদ্ধকরণ নীতি নিয়ে জিতন রাম মাজি ও চিরাগ পাসওয়ানের মতো নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন। এই মতভেদও বিজেপিকে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সবচেয়ে রহস্যময় বিষয় হল এই পুরো জল্পনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত নীতীশ কুমার কোনও মন্তব্য করেননি। বিহারের রাজনীতিতে তিনি বহুবার হঠাৎ সমীকরণ বদলে দিয়েছেন। তাই রাজনৈতিক মহলের বড় প্রশ্ন এখন একটাই সত্যিই কি শেষের পথে নীতীশ যুগ, নাকি আবারও শেষ মুহূর্তে পাল্টে যাবে বিহারের ক্ষমতার অঙ্ক?
