
উত্তর ২৪ পরগনা: ভোটের আগেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার মাত্রা বেড়ে গেছে। জগদ্দলে বিজেপি কর্মী অমিত সাউকে লক্ষ্য করে পরপর দু’রাউন্ড গুলি চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনা ঘটেছে ভাটপাড়া ৩৫ নং ওয়ার্ডের বড় শ্রীরামপুর এলাকায়। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন অমিতবাবু।
অমিতবাবু নিজেই সাংবাদিকদের জানান, “আমি আগে থেকেই বিজেপি করি। গতকাল আমার কাছে একটি ফোন আসে, যেখানে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়। বলা হয় যাতে আমি ওদের কাছে যাই। কিন্তু আমি পরে যাব বলি। এরপর আজ দলবল নিয়ে তৃণমূল কর্মীরা আমার বাড়িতে আসে, বাড়ি ভাঙচুর করে, দাদাকে মারধর করে। ভয়ে আমি পালাতে যাই, তখনই আমাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। দু’রাউন্ড গুলি হয়েছে।”
স্থানীয় বিজেপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, এই হামলা ঠিক সেই সময়ে ঘটেছে যখন রাজ্যে আসেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমার। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে তিনি ভোটের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে বৈঠক করছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ বলেন, “পরিবর্তন যাত্রায় বাইরের রাজ্য থেকে ট্রাকের সংখ্যা বেড়েছে। তবে কে সেখানে যাচ্ছে বা না যাচ্ছে, তা নিয়ে আমাদের দলের কিছু আসে যায় না। উনি থানায় অভিযোগ করুন, তদন্ত হবে।” অন্যদিকে বিজেপি নেতা সজল ঘোষ মন্তব্য করেছেন, “কেন্দ্রের প্রকল্প ও ভোটের প্রচার এ রাজ্যে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে হবে।”
অঞ্চলের মানুষও এই ঘটনার পর আতঙ্কিত। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, “ভোটের আগে এমন ঘটনার ফলে এলাকায় নিরাপত্তার পরিস্থিতি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সাধারণ মানুষ ভীত।”
ভোটের আগেই রাজনৈতিক উত্তেজনা ও হুমকি, হামলা বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে এমন আক্রমণ রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও শক্তির সংঘর্ষের ইঙ্গিত দেয়।
এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনা ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আর মানুষ জানতে চাইছে, ভবিষ্যতে এই ধরনের হিংসা ও উত্তেজনার কি সমাধান হবে।
