
বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার ঠিক পরের দিনই রাজপথে নামলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের প্রতিবাদে সোমবার কলকাতার কলেজ স্কোয়ার থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত মিছিল করেন তিনি। যদিও এই কর্মসূচি আগেই নির্ধারিত ছিল, তবু নির্বাচনের আবহে এই মিছিল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল।
মিছিলের শুরু থেকেই সামনে ছিলেন তৃণমূলের মহিলা নেত্রীরা। বিরবাহা হাঁসদা, সায়নী ঘোষ, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, নয়না দাস-সহ একাধিক নেতা-নেত্রী সামনের সারিতে ছিলেন। অনেকেই প্রতীকীভাবে মাথায় গ্যাস সিলিন্ডারের প্রতিরূপ নিয়ে মিছিলে অংশ নেন। কলেজ স্কোয়ার থেকে শুরু হওয়া এই মিছিল ধীরে ধীরে ডোরিনা ক্রসিং পৌঁছায়, যেখানে মঞ্চে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী।
মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। অভিযোগ করেন, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, গ্যাস কোম্পানিগুলির সঙ্গে কথা বলে তিনি জেনেছেন যে প্রকৃতপক্ষে কোনও ঘাটতি নেই। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ক্যাশ দিয়ে লাভ নেই, মানুষকে গ্যাস দিন।”
এদিনের বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত প্রচার না করে সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান করা উচিত। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের উপর চাপ বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি কর্মসংস্থান ইস্যুতেও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন।
মিছিলের শেষে নির্বাচনী সুর আরও জোরালো করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এ বার আরও খেলা হবে। বিজেপিকে ছক্কা মারুন। ছক্কা মেরে অক্কা করে দিতে হবে।” তিনি দাবি করেন, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা আরও বাড়বে।
বক্তব্যে প্রশাসনিক বদলির প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন ঘোষণার পর রাতারাতি রাজ্যের শীর্ষস্তরের আমলা ও পুলিশ আধিকারিকদের বদলি করা হয়েছে। এতে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি বলেন, পুলিশকে ভয় দেখিয়ে কোনও লাভ হবে না, কারণ তারা নিজেদের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছেন।
সব মিলিয়ে, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এই মিছিল হলেও মঞ্চ থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ের সুরই ছিল সবচেয়ে জোরালো। ভোটের আগে রাজপথে এই কর্মসূচি রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
