
পশ্চিমবঙ্গে ফের চাঞ্চল্য ছড়াল ‘নীল ড্রাম’ হত্যাকাণ্ড। উত্তর প্রদেশের ঘটনার ছায়া যেন এবার এসে পড়ল হুগলিতে। ভদ্রেশ্বর এলাকায় একটি নীল ড্রামের ভিতর থেকে উদ্ধার হল এক যুবকের বিকৃত দেহ, যা ঘিরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
বুধবার সকালে শ্বেতপুর-এর দিল্লি রোড সংলগ্ন একটি ফাঁকা জমিতে বস্তাবন্দি অবস্থায় একটি নীল ড্রাম পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা খবর দেন পুলিশে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ড্রামটি উদ্ধার করে এবং খুলতেই সামনে আসে শিউরে ওঠার মতো দৃশ্য ড্রামের ভিতরে ছিল এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের দেহ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেহটি ছিল নগ্ন, গলা কাটা এবং আংশিক ঝলসানো। দেহের অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে অনুমান, খুনটি অত্যন্ত নৃশংসভাবে করা হয়েছে। মৃতের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে।
তদন্তকারীদের অনুমান, ঘটনাস্থলটি মূল খুনের জায়গা নয়। অন্য কোথাও খুন করে দেহটি ড্রামে ভরে এখানে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কী কারণে এই খুন, এবং কারা জড়িত, তা জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত এক বছরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ‘নীল ড্রাম’ হত্যাকাণ্ডের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। উত্তর প্রদেশের মেরঠে এক মার্চেন্ট নেভি অফিসারকে খুন করে দেহ ড্রামে ভরে সিমেন্ট ঢেলে দেওয়ার ঘটনা ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। এরপর পঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশ-সহ একাধিক জায়গায় একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা যায়।
এই প্রেক্ষাপটে হুগলির এই ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। একই পদ্ধতিতে দেহ লুকানোর চেষ্টা কি কোনও অপরাধচক্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে, নাকি এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।
এখন নজর পুলিশি তদন্তের দিকে। মৃতের পরিচয় জানা গেলে রহস্যের জট কিছুটা খুলতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। তবে আপাতত এই ভয়াবহ ঘটনার অভিঘাতে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
