
ভোটের উত্তপ্ত আবহে দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুরে সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, যা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য জুড়ে। অভিযোগ, স্বামীকে পুলিশে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর বাড়িতে একা থাকা এক গৃহবধূর উপর গুরুতর অত্যাচার চালানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিরামপুর থানার অন্তর্গত ওই মহিলা সম্প্রতি নতুন বাড়ি তৈরি করেছিলেন। সেই বাড়ি নির্মাণ নিয়েই প্রতিবেশীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল। অভিযোগ ওঠে, অন্যের জমির উপর বেআইনিভাবে বাড়ি তৈরি করা হচ্ছে। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বাড়ছিল ধীরে ধীরে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার রাতে। প্রতিবেশীরা থানায় অভিযোগ জানানোর পর পুলিশ ওই মহিলার স্বামীকে আটক করে নিয়ে যায়। এরপরই পরিস্থিতি ভয়াবহ মোড় নেয় বলে অভিযোগ। গৃহবধূর দাবি, স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে কিছু ব্যক্তি জোর করে তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে গুরুতর নির্যাতন করে।
এই ঘটনার পর নির্যাতিতা নিজেই থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেসের জেলা সভাপতি। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে, যদিও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি তুলে ধরে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। নির্যাতিতার অভিযোগ, অভিযুক্তরা শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযোগপত্রে ঘটনার সময় নিয়ে কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলে দাবি তৃণমূলের। তাদের অভিযোগ, ভোটের আগে ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। যদিও নির্যাতিতা জানিয়েছেন, তারিখ লেখায় ভুল হয়েছে, ঘটনাটি সত্য।
জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে। সব দিক বিবেচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ভোটের আগে এই ঘটনা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।
