
সাধারণ মানুষের বিমানযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে নতুন সিদ্ধান্ত। জ্বালানির লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির জেরে দেশ ও বিদেশ, উভয় ক্ষেত্রেই বিমান ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা করল ইন্ডিগো। বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হয়েছে এই নতুন ভাড়া কাঠামো, যার ফলে যাত্রীদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হবে।
বিশ্বজুড়ে অস্থির পরিস্থিতি, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম হঠাৎ করেই অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিমান সংস্থাগুলির উপর। জেট জ্বালানির দাম প্রায় একশ তিরিশ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষের পক্ষে আগের ভাড়া বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের ওপরেই বাড়তি খরচের বোঝা চাপানো হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দেশীয় উড়ানে দূরত্ব অনুযায়ী অতিরিক্ত জ্বালানি শুল্ক যোগ করা হয়েছে। স্বল্প দূরত্বের যাত্রায় যেখানে কয়েকশো টাকা অতিরিক্ত দিতে হবে, সেখানে দীর্ঘ দূরত্বের ক্ষেত্রে সেই পরিমাণ আরও বেড়ে প্রায় হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছবে। ফলে যাঁরা নিয়মিত বিমানযাত্রা করেন, তাঁদের খরচ এখন অনেকটাই বাড়তে চলেছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক উড়ানের ক্ষেত্রে বাড়তি চাপ আরও বেশি। ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের মতো দীর্ঘ দূরত্বের গন্তব্যে যাত্রা করলে প্রতি ক্ষেত্রেই প্রায় দশ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দিতে হতে পারে। উপসাগরীয় দেশ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চিন বা আফ্রিকার ক্ষেত্রেও কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া বেড়েছে। ফলে বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
এর আগে মার্চ মাসেও সংস্থাটি নতুন বুকিংয়ের উপর বাড়তি জ্বালানি শুল্ক চালু করেছিল। তখনই ইঙ্গিত মিলেছিল যে ভবিষ্যতে ভাড়া আরও বাড়তে পারে। অবশেষে সেই আশঙ্কাই সত্যি হল।
ইন্ডিগো জানিয়েছে, তাদের মোট পরিচালন ব্যয়ের একটি বড় অংশ জুড়েই থাকে জ্বালানির খরচ, যা প্রায় চল্লিশ শতাংশের কাছাকাছি। বর্তমানে সেই খরচ এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে ভাড়া না বাড়ালে পরিষেবা চালানো কঠিন হয়ে পড়ত।
তবে সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে সরকারের কিছু পদক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলেও জানানো হয়েছে। নইলে বিমানযাত্রা অনেকের কাছেই প্রায় অধরা হয়ে যেত।
হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া এই ভাড়া সাধারণ যাত্রীদের বাজেটে বড় ধাক্কা দিতে চলেছে। এখন অনেকেই বিমানযাত্রার আগে খরচের হিসাব নতুন করে কষতে বাধ্য হচ্ছেন।
