
পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনে। তীব্র জ্বালানি সঙ্কটের জেরে পাকিস্তান ‘স্মার্ট লকডাউন’ চালুর পথে এগোচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই আংশিক বিধিনিষেধ জারি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই ‘স্মার্ট লকডাউন’ সম্পূর্ণ বন্ধের মতো নয়, বরং নির্দিষ্ট এলাকা ও খাতে সীমিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। ৪ এপ্রিল থেকে বাজার, শিল্প কারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে বিবাহ বা বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করা হবে। তবে হাসপাতাল, ওষুধের দোকান, পরিবহণ ও জরুরি পরিষেবাকে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হচ্ছে।
মূলত হরমুজ় প্রণালীর অচলাবস্থা এবং উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তান চরম চাপে পড়েছে। ইতিমধ্যেই সরকারি কর্মীদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’, স্কুল বন্ধ এবং ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবুও পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও কঠোর সিদ্ধান্তের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
শুধু পাকিস্তানই নয়, এশিয়ার একাধিক দেশ জ্বালানি সাশ্রয়ে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযমের জন্য প্রচার শুরু করেছে। ভিয়েতনাম জেট ফুয়েলের অভাবে একাধিক উড়ান বাতিল করেছে। থাইল্যান্ড অফিসে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করে শক্তি খরচ কমানোর চেষ্টা করছে। শ্রীলঙ্কা সপ্তাহে চার দিনের কর্মসূচি চালু করে জ্বালানি সাশ্রয়ের পথে হাঁটছে।
ভারত এখনও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় থাকলেও, জ্বালানি স্টেশনগুলিতে চাপ এবং অর্থনৈতিক প্রভাবের ইঙ্গিত স্পষ্ট। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।
