
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে পেটেন্ট করা ওষুধ আমদানির উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে ভারতের জন্য স্বস্তির বিষয় হল, জেনেরিক ওষুধ আপাতত এই শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। এর ফলে ভারতের ওষুধ শিল্পে মিশ্র প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক হোয়াইট হাউসের সিনিয়র কর্মকর্তা ANI-কে জানিয়েছেন, “জেনেরিক ওষুধ, যা ভারতের রপ্তানির বড় অংশ, তাকে শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। তবে বাণিজ্য দপ্তর জেনেরিক ওষুধের উৎপাদন দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি খতিয়ে দেখবে এবং সেই অনুযায়ী শুল্কের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারে।”
স্বল্পমেয়াদে জেনেরিক ওষুধকে ছাড় দেওয়া থাকায় ভারতের কমদামি ওষুধ আমেরিকার বাজারে রপ্তানি করা চলতে থাকবে। ভারতীয় কোম্পানিগুলো বিশ্বজুড়ে জেনেরিক ওষুধের বাজারে বড় অংশীদারিত্ব রাখে, তাই শুল্কের কারণে এখানে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।
কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। পেটেন্ট করা ওষুধ এবং অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (API)-এর উপর শুল্কের প্রভাব গোটা সাপ্লাই চেনে পড়বে। বিশেষ করে কন্ট্র্যাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং ও বহুজাতিক সংস্থাগুলোকে কাঁচামাল জোগানোর ক্ষেত্রে ভারতীয় কোম্পানিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, “যেসব পেটেন্ট করা পণ্যের উৎপাদন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়নি, সেগুলোর উপর ১০০% শুল্ক প্রযোজ্য হবে।”
ট্রাম্পের ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, “ওষুধ এবং তার সঙ্গে যুক্ত API এমন পরিস্থিতিতে আমদানি করা হচ্ছে, যা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৫৩ শতাংশ পেটেন্টযুক্ত ওষুধ বিদেশে তৈরি হয়, আর মাত্র ১৫ শতাংশ API আমেরিকায় উৎপাদিত।”
ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়েছে, “জাতীয় প্রতিরক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য দেশীয় উৎপাদন ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক। পেটেন্ট করা ওষুধ ক্যান্সার, বিরল রোগ, সংক্রামক রোগ ও গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসায় অপরিহার্য।”
নতুন শুল্ক ২০২৬ সালের জুলাই এবং সেপ্টেম্বর থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। যেসব কোম্পানি উৎপাদন দেশে ফিরিয়ে আনবে, তাদের সাময়িক ছাড় দেওয়া হবে। তবে চার বছরের মধ্যে শুল্কের হার ১০০ শতাংশে পৌঁছে যাবে।
এ সিদ্ধান্ত ভারতের ওষুধ শিল্পের জন্য স্বল্পমেয়াদে সুবিধাজনক হলেও দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন খরচ, বিদেশি বিনিয়োগ ও সাপ্লাই চেইনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
