
মালদহের সুজাপুর বিধানসভা কেন্দ্র ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। সদ্য প্রকাশিত সংশোধিত ভোটার তালিকায় বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে সাধারণ ভোটার থেকে রাজনৈতিক মহল পর্যন্ত। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি।
এই ঘটনায় সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই। কালিয়াচকের একাধিক এলাকায় দেখা যাচ্ছে, সম্পূর্ণ পরিবারভিত্তিকভাবে নাম বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে। যেমন, সিলামপুর অঞ্চলের এক পঞ্চায়েত সদস্য মেহেবুল মহল্লাদারের পরিবারের ১২ জনের নামই তালিকা থেকে উধাও। অথচ, তাঁরা প্রত্যেকেই আগের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিও জমা করেছিলেন।
মেহেবুলের বাবা আব্দুল কুদ্দুস মহল্লাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার ছেলে নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য, অথচ তার নামই বাদ। শুধু ওর নয়, আমাদের পরিবারের কারও নাম রাখা হয়নি। শুনানিতে সব কাগজ জমা দেওয়ার পরেও এমনটা কেন হল, বুঝতে পারছি না।” তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও কোনও সুরাহা হয়নি, বরং পরিকল্পিতভাবে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের সন্দেহ।
পরিসংখ্যান বলছে, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর আগে সুজাপুরে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লক্ষ ৫২ হাজার। সংশোধনের পর মৃত ভোটার ও অন্যান্য কারণে নাম বাদ দিয়ে সেই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে যায়। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে এই প্রক্রিয়াকে নিয়মমাফিক বলেই দাবি করা হয়েছে, কিন্তু এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ায় প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে।
রাজনৈতিক দিক থেকেও এই ঘটনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। গত লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় ৭৬ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিল কংগ্রেস-সিপিএম জোটের থেকে। ফলে, এবার এই বিপুলসংখ্যক ভোটার নাম বাদ পড়া শাসক শিবিরের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই তৃণমূল প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলিও এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। তাঁদের দাবি, এই ধরনের ঘটনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
সুজাপুরের ভোটার তালিকা বিতর্ক এখন রাজ্যের রাজনীতিতে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে এই নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
