
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগে ফের কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের পর এ বার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং থেকে গ্রেফতার করা হল তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত প্রধানকে। কমিশনের নির্দেশেই দেউলি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হাফিজুল মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, জীবনতলা এলাকায় একটি জনসভা থেকে হাফিজুল ভোটারদের উদ্দেশে হুমকিসূচক মন্তব্য করেন। অভিযোগ, তিনি বলেন যে ভোট গণনার পর ‘স্টিম রোলার’ চালানো হবে বিরোধীদের উপর। এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ছড়ায় এবং দ্রুতই বিষয়টি কমিশনের নজরে আসে। এরপরই কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, কমিশনের নির্দেশ মেনেই হাফিজুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যদিও তার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, এর আগেও একই ধরনের অভিযোগে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড তৃণমূল কমিটির সভাপতি রাজু মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ফলে পরপর দুই ঘটনায় কমিশনের এই কড়া অবস্থান রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে।
রাজ্যে ভোটের আগে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে। বেশ কয়েক জন আমলা ও পুলিশ আধিকারিককে সরানো হয়েছে তাঁদের পদ থেকে এবং নতুন করে নিয়োগ করা হয়েছে অন্যদের। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, যাঁদের সরানো হয়েছে, তাঁদের আপাতত নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে যুক্ত করা যাবে না।
এই পদক্ষেপ ঘিরে শাসকদল তৃণমূলের সঙ্গে কমিশনের টানাপোড়েনও প্রকাশ্যে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে অসন্তোষ জানিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠি দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা ছাড়াই একতরফা ভাবে এই বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা অতীতের প্রচলিত রীতির পরিপন্থী।
ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটদানের পরিবেশ নিশ্চিত করতেই কমিশন এই বার বার কড়া বার্তা দিচ্ছে। ক্যানিংয়ের এই ঘটনা সেই বার্তাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলল নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনওরকম ভয় দেখানো বা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।
